সীতাকুণ্ডে র‍্যাবের ওপর হামলা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
সীতাকুণ্ডে র‍্যাবের ওপর হামলা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছেন র‍্যাব সদস্যরা। এই ঘটনায় এক র‍্যাব সদস্য গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া আরও তিনজন র‍্যাব সদস্যকে দুর্বৃত্তরা আটকে রেখেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

অভিযান ও হামলার সূত্রপাত র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে র‍্যাব-৭ (পতেঙ্গা ব্যাটালিয়ন)-এর একটি দল জঙ্গল সলিমপুরে বিশেষ অভিযানে যায়। এ সময় স্থানীয় ভূমিদস্যু ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধ হয়ে র‍্যাব সদস্যদের ওপর চড়াও হয়। তাদের হামলায় এক সদস্য গুরুতর জখম হন। সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, জিম্মি সদস্যদের উদ্ধারে র‍্যাবের অতিরিক্ত ফোর্স ও পুলিশ ওই এলাকায় বিশাল অভিযান পরিচালনা করছে। সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।

সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য জঙ্গল সলিমপুর প্রায় ৪ দশক ধরে ৩ হাজার ১০০ একর সরকারি পাহাড় ও খাস জমি দখল করে জঙ্গল সলিমপুরে গড়ে উঠেছে বিশাল অবৈধ বসতি। এই এলাকাটি দীর্ঘকাল ধরে ভূমিদস্যু ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে পরিচিত। এলাকাটি নিজস্ব সশস্ত্র পাহারায় নিয়ন্ত্রিত হয় এবং বাইরের কারো প্রবেশ সেখানে প্রায় নিষিদ্ধ। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এই এলাকার খাস জমির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল অর্থনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করেই এখানে নিয়মিত খুনোখুনি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও বারবার হামলা গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সশস্ত্র সংঘর্ষ আরও প্রকট হয়েছে। গত কয়েক মাসে পাহাড় দখলকে কেন্দ্র করে সেখানে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এমনকি সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরাও হামলার শিকার হয়েছেন। এর আগেও ২০২৩ ও ২০২২ সালে জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ওপর একাধিকবার রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটেছে।

অভিযানে ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, এলাকাটির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেখানে অভিযান চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বাহিনীর গাড়ি প্রবেশ করলেই পাহারাদারদের মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা সতর্ক হয়ে যায় এবং পাহাড়ের ওপর থেকে গুলি, ককটেল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। ফলে এককভাবে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। উল্লেখ্য যে, এই জমিতে আইটি পার্ক ও কারাগারসহ ১১টি সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও সন্ত্রাসীদের বাধার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।

জেএইচআর