নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত মতি মিয়াকে (৫০) উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের চেংজেনা গ্রামের আপন চাচাতো ভাই হুমায়ুন মিয়া ও সুনু মিয়ার পরিবারের মধ্যে এই বিরোধের সৃষ্টি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হুমায়ুনের স্ত্রীর দায়ের করা একটি মামলা নিয়ে গত সোমবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পুলিশ তখন পরিস্থিতি শান্ত করলেও মঙ্গলবার সকালে তা চরম আকার ধারণ করে।
সংঘর্ষের বিবরণ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাহিতপুর চার রাস্তার মোড়ে হুমায়ুনের বাবা নবাব আলী মিয়াকে মারধর করেন প্রতিপক্ষের সামসু ও দুলাল। এর জেরে দুপুর ১২টার দিকে দুই পক্ষের ৩০-৪০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলা এই দফায় দফায় সংঘর্ষে চেংজেনা গ্রামের মতি মিয়া, সেলিম, পুষ্প, তাসলিমা, চম্পা, ছোটন, কামাল ও মোবারক আহত হন।
প্রশাসনের তৎপরতা খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী মাকসুদের নেতৃত্বে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ময়মনসিংহ মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য কেন্দুয়া থানার ওসি মেহেদী মাকসুদ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার মূল হোতা হুমায়ুন ও সুনু মিয়া উভয়েই মাদকাসক্ত। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন