ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র লড়াইয়ে রুমিন ফারহানা, প্রতীক পেলেন ‘হাঁস’

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র লড়াইয়ে রুমিন ফারহানা, প্রতীক পেলেন ‘হাঁস’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের নির্বাচনী সমীকরণ এখন তুঙ্গে। আজ বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দের দিনে অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। নিজের দীর্ঘদিনের পছন্দের প্রতীক ‘হাঁস’ বরাদ্দ পাওয়ার মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের লড়াই শুরু করলেন।

গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন থেকেই রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকদের মুখে ছিল ‘হাঁস’ প্রতীকের নাম। সমর্থকদের সেই চাওয়া আর রুমিন ফারহানার ব্যক্তিগত পছন্দের কথা মাথায় রেখে আজ তিনি সশরীরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এই প্রতীকটি দাবি করেন। অন্য কোনো প্রার্থী এই প্রতীকের দাবিদার না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রুমিন ফারহানার হাতে উঠে আসে ‘হাঁস’ প্রতীক।

প্রতীক পাওয়ার পর উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা বলেন, "জনগণের চাওয়া আর আমার পছন্দের মিলন ঘটেছে এই প্রতীকের মাধ্যমে। এখন লড়াই হবে মাঠে।"

প্রতীক বরাদ্দের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন যে, গণসংযোগ চালাতে গিয়ে তিনি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি বলেন, "আমি প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ওপর কেবল দেশের মানুষের নয়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেরও বিশেষ নজর রয়েছে। আমি এই আসনের একজন নারী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রত্যাশা করব, প্রশাসন যেন পুরোপুরি নিরপেক্ষ থাকে এবং নির্বাচনকে কেউ যেন কালিমালিপ্ত করতে না পারে।"

রুমিন ফারহানা রাজনৈতিক দলগুলোর বিশেষ করে বড় দলগুলোর উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, নির্বাচনে সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব দলগুলোর নেতাদের। তিনি আহ্বান জানান যেন কোনো নেতা-কর্মী অসংলগ্ন বা অসভ্য আচরণ না করেন এবং আইন অমান্য না করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচনের এই সময়ে কোনো বিশৃঙ্খলা হলে তার দাগ সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে ভবিষ্যতে বয়ে বেড়াতে হবে।

সরাইল, আশুগঞ্জ এবং বিজয়নগরের চান্দুরা ও বুধন্তী ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনটি এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এখানে মূলত একটি ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে:

জোটের প্রার্থী: বিএনপি এই আসনটি তাদের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে ছেড়ে দিয়েছে।

রুমিন ফারহানা (স্বতন্ত্র): বিএনপির সাবেক এই এমপি স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন, যাঁর সাথে রয়েছে একটি শক্তিশালী জনসমর্থন ও নারী ভোটারদের বড় অংশ।

তরুণ দে (স্বতন্ত্র): কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে-ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে দুই হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থীর লড়াই ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নির্বাচনী লড়াইকে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করে তুলেছে। রুমিন ফারহানা ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে তাঁর প্রচারণা কতটা জোরালো করতে পারেন এবং প্রশাসন ভোটগ্রহণের দিন কতটা কঠোর অবস্থান নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে এই আসনের চূড়ান্ত ফলাফল।

আপাতত ‘হাঁস’ মার্কার পোস্টারে ছেয়ে যেতে শুরু করেছে সরাইল ও আশুগঞ্জের অলিগলি, আর সাধারণ ভোটাররা অপেক্ষা করছেন এক টানটান উত্তেজনার নির্বাচনের।

এএন