কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য ফেলা হচ্ছে খাল ও যমুনা নদীতে, হুমকির মুখে জনজীবন

উজ্জ্বল অধিকারী, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য ফেলা হচ্ছে খাল ও যমুনা নদীতে, হুমকির মুখে জনজীবন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে অপরিকল্পিত ভাবে যেখানে সেখানে গড়ে উঠেছে তাঁতের সুতা প্রক্রিয়াজাতকরণের অবৈধভাবে সুতা রংয়ের কারখানা। এ তাঁত শিল্পকে বাঁচাতে গিয়ে যেখানে সেখানে গড়ে তোলা এসব সুতা প্রক্রিয়াজাত করণ প্রসেস মিলগুলো লোকালয়ে স্থাপন করার ফলে সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যাপক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে।

বেলকুচি উপজেলার ক্ষিদ্রমাটিয়ার বোল্ডার বাজার সহ তৎসংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সুতার সাথে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রং ও কেমিক্যাল ব্যবহার করে তাঁতে ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া সম্পাদন হলেই সেই ক্ষতিকারক কেমিক্যালের বর্জ্য আবার ফেলা হচ্ছে স্থানীয় পুকুর, খাল, নালা, খোলা মাঠ সহ যমুনা নদীতে। 

খোলা জায়গায় জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যালের বর্জ্য ফেলার কারণে ওই এলাকাগুলোতে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে। যার কারণে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন সেখানকার বাসিন্দারা। এমনকি এসব ডাইং কারখানায় কর্মরত শ্রমিকেরাও মানছে না স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিয়মনীতি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, সাধারণ জীবন যাপনে অসুবিধার হওয়ার কারণে প্রশাসন সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে সুতা রংয়ের কারখানা মালিকদের বিরুদ্ধে বার বার অভিযোগ করেও তার কোন সুরাহা হয়নি। সুতা প্রসেস মিলে ব্যবহৃত ক্ষতিকারক কেমিক্যাল বর্জ্য ফেলার কারণে আশপাশের টিউবওয়েলের পানি পান করতে পারছেন না তারা। এ ক্ষতিকারক বর্জ্যের দুর্গন্ধের কারণে তারা ঠিক মতো নিশ্বাসও নিতে পারছে না। 

এমনকি তারা তাদের নলকূপের পানি পান ও ব্যবহার করতে পারছে না। যারা রংয়ের কারখানার আশপাশের টিউবওয়েলের পানি পান ও ব্যবহার করছেন তারা আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগ সহ বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগে।

এ ব্যাপারে সুতা কারখানার মালিক অভিজিৎ রায় বলেন, তাঁত কারখানা বাঁচতে গেলে আমাদের ডাইং কারখানায় সুতা রং করা প্রয়োজন হয়। তাই আমরা চেষ্টা করি লোকালয় থেকে একটু দূরে কারখানাগুলো স্থাপন করতে। তারপরও আমাদের এ কারখানার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের যেন অভিযোগের শেষ নেই। কথা বলার সময় তিনি কারখানায় ব্যবহৃত জনস্বার্থের ক্ষতিকর বর্জ্য যমুনা নদীর শাখায় ফেলার কথা স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান জানান, যে সকল এলাকায় অবৈধ সুতা রংয়ের কারখানা রয়েছে আমার সেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। অনেক কারখানাকে জরিমানাও করা হয়েছে। 

ভবিষ্যতে আমাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সেই সাথে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের যারা কর্মকর্তা রয়েছেন তারাও এ অবৈধ সুতা রংয়ের কারখানা বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ইএইচ