কুমিল্লার রেললাইনে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তার খণ্ডবিখণ্ড লাশ, দুর্ঘটনা না কি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
কুমিল্লার রেললাইনে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তার খণ্ডবিখণ্ড লাশ, দুর্ঘটনা না কি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়া সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল আজিজের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল আটটার দিকে কুমিল্লার লালমাই রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাঁর খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ।

মরদেহের ধরণ এবং নিহতের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় এটিকে স্রেফ ট্রেন দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ তাঁর পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

ঘটনার বিবরণ ও মরদেহ উদ্ধার নিহত আবদুল আজিজ চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নের ওয়াহিদুর পাড়া গ্রামের মৃত আবদুল আলমের সন্তান। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে লালমাই রেলস্টেশনের অদূরে রেললাইনের ওপর এক যুবকের ছিন্নভিন্ন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা স্টেশন মাস্টারকে খবর দেন। খবর পেয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। 

পুলিশ জানায়, লাশের গলা কাটা ছিল এবং হাত ও পা শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরে পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ট্রেনের ভেতর পরিকল্পিত খুন আবদুল আজিজ গত বছর ইসলামী ব্যাংকের অফিসারের পদ থেকে চাকরিচ্যুত হন। এরপর থেকে তিনি ঢাকার একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে কর্মরত ছিলেন। গতকাল রাতে তিনি ঢাকা থেকে ট্রেনযোগে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। 

নিহতের চাচাতো ভাই সফিউল আলম জানান, গতকাল রাত ৯টার দিকে আজিজের সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয়। তখন তিনি জানিয়েছিলেন ট্রেন কুমিল্লা এলাকায় পৌঁছেছে। এরপর থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাশের ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হন এটি আজিজ। পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়। 

সফিউল আলমের দাবি, পুলিশের বর্ণনা এবং লাশের অবস্থা দেখে তাঁদের মনে হচ্ছে, তাঁকে চট্টগ্রামমুখী ট্রেন থেকে নামিয়ে বা জোরপূর্বক ঢাকামুখী কোনো ট্রেনে তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে, হাত ও পা কেটে হত্যা করার পর ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলন ও নেপথ্যের কারণ পরিবারের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে একটি বিশেষ কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। আবদুল আজিজ চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তাদের পুনরায় চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনের একজন সক্রিয় সমন্বয়ক ছিলেন। তাঁর স্বজনদের ধারণা, এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল তাঁকে লক্ষ্য বানিয়ে পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দিয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত লাকসাম রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা স্টেশন মাস্টারের মাধ্যমে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করি। এটি চলন্ত ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু না কি অন্য কোনো স্থানে হত্যা করে এখানে ফেলে রাখা হয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। 

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পুলিশ বর্তমানে নিহতের মোবাইল কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) এবং ওই সময়ে ওই রুট দিয়ে যাতায়াত করা ট্রেনগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ বা অন্যান্য আলামত সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

ব্যক্তিগত জীবন ও শোকের ছায়া নিহত আবদুল আজিজ বিবাহিত এবং তাঁর আড়াই বছর বয়সী একটি ছোট শিশুসন্তান রয়েছে। তাঁর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পটিয়ার গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। একজন মেধাবী সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তার এমন করুণ পরিণতি এলাকাবাসীকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

জেএইচআর