ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় প্রশাসন তদবিরবিরোধী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অভিযোগ বা সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের কাছে যেতে হলে ভুক্তভোগী ব্যক্তিকেই সরাসরি উপস্থিত হতে হচ্ছে। তৃতীয় পক্ষ বা মধ্যস্থতাকারীদের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে ভুক্তভোগী নিজেই এসে নিজের কথা বলবেন। বাঁশহাটা গ্রামের বাসিন্দা হেলাল মিয়া জমি সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে এসিল্যান্ড কার্যালয়ে গেলে এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন।
তিনি বলেন, “আমার সাথে আরেকজন ছিল। তাকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে এবং কক্ষের বাইরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।”
একাধিক প্রবীণ নাগরিক জানান, বর্তমানে প্রশাসনের কাছে যেতে দালাল বা তদবিরকারীর প্রয়োজন হচ্ছে না। সরাসরি অভিযোগ জানানো সম্ভব হচ্ছে। ইউএনও কার্যালয়েও একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তদবির করতে আসা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে ভুক্তভোগী ছাড়া অন্য কারো কথা শোনা হবে না।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা-০৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের প্রার্থী ও জেলা নায়েবে আমির মো. আব্দুল ওয়ারেছ বলেন, এবার প্রশাসনকে নিরপেক্ষ মনে হচ্ছে। নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও বেড়েছে।
পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমানতালে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে। কোথাও সভা বা উঠান বৈঠক হলে আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের পাশাপাশি প্রার্থীদের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে থানার কার্যক্রমেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
চলতি বছরে থানায় করা একাধিক সাধারণ ডায়েরির (জিডি) আবেদনকারীরা জানিয়েছেন, জিডি করতে তাদের কোনো অর্থ দিতে হয়নি। সব মিলিয়ে নির্বাচনকে সামনে রেখে সাঘাটায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন