টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় এক বৃদ্ধ দম্পতিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর তাঁদের ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ধানের চারা রোপণের কাজে আনা দুই বহিরাগত শ্রমিককে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের ঘোষাখালী গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতদের পরিচয় নিহতরা হলেন- ঘোষাখালী গ্রামের মোতাহার সিকদার ওরফে ঠান্ডু (৭৫) এবং তাঁর স্ত্রী রেজিয়া বেগম (৬৫)। এই জোড়া খুনের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ নিহতের নাতি শাকিল সিকদার জানান, গত রোববার ধানের চারা রোপণের জন্য শরিফ ও সুমন নামে দুই শ্রমিককে বাড়িতে আনা হয়। মোতাহার সিকদারের পায়ে ব্যথা থাকায় ওই শ্রমিকরা তাঁকে জনৈক কবিরাজি ওষুধও খাইয়েছিলেন। সোমবার রাতে ওই দুই শ্রমিককে ঘরের বারান্দায় ঘুমানোর ব্যবস্থা করা হয় এবং বৃদ্ধ দম্পতি ঘরের ভেতরে ঘুমান।
অভিযোগ উঠেছে, রাতের কোনো এক সময় শ্রমিকরা ঘরের টিন কেটে ও দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর মোতাহার সিকদার ও রেজিয়া বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ঘর থেকে নগদ অর্থ ও মূল্যবান স্বর্ণালংকার লুট করে তারা পালিয়ে যায়। মঙ্গলবার সকালে স্বজনরা তাঁদের উদ্ধার করে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
প্রশাসনের বক্তব্য হাবলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম জানান, দুই অজ্ঞাত শ্রমিকের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
টাঙ্গাইলের সহকারী পুলিশ সুপার (সখীপুর সার্কেল) এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, ধানের চারা রোপণের কাজে আনা ওই দুই শ্রমিক ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘর থেকে কী পরিমাণ মালামাল লুট হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন