পার্বত্য চট্টগ্রামকে দেশের মূলধারার সাথে সম্পৃক্ত করতে এবং আধুনিক শিক্ষা বিস্তারে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।
মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর সরকারি কার্যালয় 'যমুনা' থেকে অনলাইনে তিন পার্বত্য জেলার ১২টি বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ই-লার্নিং কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।
আধুনিক শিক্ষার নতুন অধ্যায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত (অব.) সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য অভূতপূর্ব এই ই-লার্নিং কার্যক্রম উদ্বোধনের মাধ্যমে গুণগত ও আধুনিক শিক্ষা বিস্তারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন। এই ব্যবস্থাটির বাস্তবায়ন মূলত প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের একক চিন্তা ও চেতনারই ফসল।
লক্ষ্য ১৫০টিরও বেশি বিদ্যালয় উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা জানান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ নির্দেশনায় প্রাথমিকভাবে তিন জেলার প্রতিটিতে একটি প্রাথমিক ও তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ মোট ১২টি স্কুলে এই কার্যক্রম চালু হলো। তবে লক্ষ্য কেবল এই ১২টি স্কুল নয়; বরং পর্যায়ক্রমে ১৫০টি বা তারও অধিক বিদ্যালয়কে ই-লার্নিং-এর আওতায় আনার কাজ চলছে। চলতি মাসের মধ্যেই এগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈষম্যহীন পার্বত্য অঞ্চল গড়ার অঙ্গীকার বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামকে দেশের অন্য স্থানের চেয়ে পিছিয়ে রাখতে চায় না। এই ই-লার্নিং কার্যক্রমের ফলে পার্বত্য অঞ্চল প্রযুক্তি, যোগাযোগ ও পর্যটনসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও সমৃদ্ধ হবে। তিনি একটি বৈষম্যহীন, মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন এবং সম্প্রীতি ও প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক পার্বত্য অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের সারসংক্ষেপ অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার পাশে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এ সময় তিন পার্বত্য জেলা থেকে অনলাইনে যুক্ত ই-লার্নিংভুক্ত ১২টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা প্রধান উপদেষ্টার সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন