৬০ বছর পর দেশের প্রথম লৌহখনির আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে ৩১ জানুয়ারি শনিবার থেকে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কূপ খননের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে জিএসবি সূত্রে জানা গেছে।
চলতি বছর বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) এর উদ্যোগে দেশের প্রথম লৌহখনির অনুসন্ধান কাজ শুরু করা হবে।
তৎকালীন পাকিস্তান খনিজ সম্পদ বিভাগ ১৯৫৬ সালে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ও মিঠিপুর ইউনিয়নের ছোট পাহাড়পুর ও কুতুবপুর গ্রামের ভেলামারী পাথারে এটি আবিষ্কার করে।
ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক সমীক্ষায় এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লৌহ আকরের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলোআপ প্রতিবেদনে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উঠে আসার পর সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্ব পায় এবং দ্রুত অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
খনি এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ভূ-গঠন বিশ্লেষণ ও খনিজের গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য ইতোমধ্যে আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে আসা হয়েছে খনির উৎস মুখের মাত্র ১০০ মিটার দূরে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, অনুসন্ধান সফল হলে দেশে শিল্পখাতে কাঁচামাল সরবরাহে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং আমদানিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে এ অনুসন্ধান কার্যক্রম ঘিরে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা মনে করছেন, লৌহখনি আবিষ্কৃত হলে এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিচালক আলী আকবর জানিয়েছেন, সব দিক বিবেচনায় রেখেই চলতি মাসের ৩১ তারিখে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ড্রিলিং কার্যক্রমের উদ্বোধন হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন ড্রিলিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব। অনুসন্ধান শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৫৬ সালে খনিটি আবিষ্কৃত হওয়ার পর ১৯৯৯ সালে উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের বড়পাহাড়পুর গ্রামে ও ২০২৩ সালে মিঠিপুর ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামে ড্রিলিং কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন