সংবিধান, প্রচলিত আইন ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিও লঙ্ঘন করে ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান দোলনকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্তের প্রতিবাদে জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার কামারগ্রাম এলাকার নিজ বাড়িতে জাহাজ প্রতীকের এই প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ আরিফুর রহমান দোলন অভিযোগ করেন, তিনি সংবিধান ও নির্বাচনী আইনের সকল শর্ত পূরণ করেও একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন। ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহস না পেয়ে একটি মহল আদালত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে তাঁকে নির্বাচনী ময়দান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে সুবিধা দিতেই তাঁর বিরুদ্ধে এই বেআইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাঁকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ফরিদপুর-১ আসনে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য মাঠ ফাঁকা করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
আরিফুর রহমান দোলন বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের কোথাও উল্লেখ নেই যে অতীতে কেউ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। তারপরও সেই অতীত পরিচয়কে অজুহাত বানিয়ে তাঁর প্রার্থিতা আটকে দেওয়া হচ্ছে, যা স্পষ্টতই আইনের অপব্যবহার।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ থাকা প্রার্থীরাও উচ্চ আদালতের মাধ্যমে নির্বিঘ্নে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, সেখানে সব ধরনের বৈধ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বাধা দেওয়া চরম বৈষম্য। এটি ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার উৎসাহ নষ্ট করার একটি চেষ্টা।
দোলনের দাবি, প্রার্থিতা স্থগিত রেখে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সাজানো ও প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ তৈরি করা হচ্ছে। এতে নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আইনগত লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, যেন বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন