চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ভোটগ্রহণের প্রথম দুই ঘণ্টায় এগিয়ে কোতোয়ালি, পিছিয়ে বন্দর-পতেঙ্গা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি  প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ভোটগ্রহণের প্রথম দুই ঘণ্টায় এগিয়ে কোতোয়ালি, পিছিয়ে বন্দর-পতেঙ্গা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক মহাযজ্ঞ চলছে আজ সারা দেশে। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোট উৎসবের প্রথম দুই ঘণ্টার পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। 

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ১৬টি আসনে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অর্থাৎ শুরুর প্রথম দুই ঘণ্টায় গড়ে ১১ দশমিক ০৬ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে। নগরের কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের আনাগোনা থাকলেও আসনভেদে ভোট পড়ার হারে বেশ তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে প্রথম দুই ঘণ্টায় ভোট প্রদানের হারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসন। অন্যদিকে, তুলনামূলক কম ভোট পড়েছে নগরের চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান জানিয়েছেন, নগরের বাইরে জেলার বাকি ১০টি আসনে গড়ে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। অর্থাৎ শহরের তুলনায় মফস্বল এলাকায় সকালের দিকে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা বেশি ছিল।

সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে চট্টগ্রামে এবার দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে তিন স্তরে। জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা জেলার ১০টি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন নগর ও সংলগ্ন ৫টি আসনের মূল দায়িত্বে রয়েছেন। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী চট্টগ্রাম-১১ আসনের স্বতন্ত্র রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন।

সকাল সাড়ে ৮টায় লোহাগাড়ার পদুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন কেন্দ্রে দেখা গেছে ভোটারদের লম্বা সারি। বিশেষ করে চট্টগ্রাম-৯ আসনে সকাল থেকেই ভোটারদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে চট্টগ্রাম-১১ আসনে প্রথম আড়াই ঘণ্টায় মাত্র ৬ শতাংশের মতো ভোট পড়া নিয়ে কিছুটা বিশ্লেষণ চলছে। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই হার বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারের ত্রয়োদশ নির্বাচনে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। 

দ্বাদশ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ভোটার ছিল ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ৩১৭ জন। দুই বছর পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জনে। মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৭ জন এবং নারী ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬০ জন। হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ৭০ জন।

অবাক করার মতো বিষয় হলো, ভোটার বাড়লেও গত নির্বাচনের তুলনায় এবার কেন্দ্রের সংখ্যা কমেছে। দ্বাদশ নির্বাচনে ২ হাজার ২৩টি কেন্দ্র থাকলেও এবার তা ১ হাজার ৯৬৫টি। অর্থাৎ এবার ৫৮টি কেন্দ্র কম। ১২ হাজার ৬০১টি ভোটকক্ষে ১ হাজার ৯৬৫ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নির্বাচন পরিচালনা করছেন।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে এবার মোট ১১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হেভিওয়েট প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের লড়াইয়ে ভোটারদের এই সকালের উপস্থিতি বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা নতুন ভোটার হয়েছেন, তাদের মধ্যে ভোট দেওয়ার প্রবল উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।

প্রথম দুই ঘণ্টার এই পরিসংখ্যান কেবল দিনের শুরু নির্দেশ করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে প্রার্থীরা আশা করছেন। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, যা ভোটারদের কেন্দ্রে আসার পরিবেশকে অনুকূল করে তুলেছে।

এএন