বগুড়া থেকে শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ডের: ১০ মার্চ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বগুড়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
বগুড়া থেকে শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ডের: ১০ মার্চ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়া থেকেই সূচিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের এক বিশাল অধ্যায়। আগামী ১০ মার্চ বগুড়া সদর উপজেলায় বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার ভিত্তিক এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার এক নতুন পথ উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। 

শুক্রবার বিকেলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এই ঐতিহাসিক সূচির কথা নিশ্চিত করেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড চালুর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রচার করেছিল। জনগণের ব্যাপক ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করার পর, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে হাঁটল নতুন প্রশাসন। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই যেন সাধারণ মানুষ এই সুবিধার সুফল পেতে শুরু করে, সেই লক্ষ্যেই আগামী ১০ মার্চ থেকে এর পরীক্ষামূলক বিতরণ শুরু হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ফ্যামিলি কার্ডের মূল লক্ষ্য হলো পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত মজবুত করা। কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবে। এই কর্মসূচির একটি বৈপ্লবিক দিক হলো, কার্ডটি দেওয়া হবে পরিবারের নারী সদস্যের নামে। প্রতিটি যোগ্য পরিবারের একজন নারী সদস্য কার্ডধারী হিসেবে নিবন্ধিত হবেন, যা নারীর আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। মূলত দেশের হতদরিদ্র, দরিদ্র এবং নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে।

যাতে কোনো প্রকৃত অভাবী পরিবার এই তালিকা থেকে বাদ না পড়ে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে প্রশাসন। মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আমরা কোনো মনগড়া তালিকা করছি না। সরাসরি মাঠপর্যায়ে গিয়ে দ্বারে দ্বারে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের যোগ্য বিবেচিত সব পরিবারকেই এই কার্ডের আওতায় আনা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইতোমধ্যে বগুড়া সদরসহ পরীক্ষামূলক প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোতে সরকারি কর্মকর্তারা তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের বগুড়া সফর এবং এই মেগা প্রকল্পের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১০ মার্চের উদ্বোধনকে স্মরণীয় করে রাখতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং প্রস্তুতির কাজ চলছে। বগুড়া সদর উপজেলার সুবিধাভোগী নারীরা এই ঘোষণায় অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। তাদের মতে, মাসের শুরুতে এই আড়াই হাজার টাকা সংসার চালনায় এবং শিশুদের শিক্ষা ব্যয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।

প্রাথমিকভাবে বগুড়াসহ কয়েকটি স্থানে পরীক্ষামূলক বা পাইলট ভিত্তিতে এই বিতরণ শুরু হলেও, সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের কয়েক কোটি পরিবারকে এই স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা। এই কার্ডের মাধ্যমে ভবিষ্যতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর পণ্যসহ অন্যান্য সরকারি সুবিধাও একীভূত করার সম্ভাবনা রয়েছে। 

বগুড়া থেকে শুরু হওয়া এই পথচলা কেবল একটি কার্ড বিতরণ নয়, বরং এটি রাষ্ট্র ও সাধারণ নাগরিকের মধ্যে একটি নতুন চুক্তির বহিঃপ্রকাশ। যেখানে প্রতিটি পরিবারকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেওয়া হচ্ছে। ১০ মার্চের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের দিকে এখন তাকিয়ে আছে সারা বাংলাদেশ।

জেএইচআর