চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় জাটকা রক্ষায় মার্চ-এপ্রিল দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরা ও বিক্রিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছে না একদল অসাধু চক্র।
প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জেলার মেঘনা তীরবর্তী এলাকাগুলোতে বিশেষ করে সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নের আখনের হাটে দেদারসে জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে।
সোমবার সকালে মেঘনা পাড়ের আখনের হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি বিধিনিষেধ তোয়াক্কা না করেই একাধিক ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে হাঁকডাক দিয়ে জাটকা বিক্রি করছেন।
কম দামে জাটকা পাওয়ায় ক্রেতারাও বিপুল আগ্রহ নিয়ে সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন। অথচ জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি অনুযায়ী এই সময়ে জাটকা ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অসাধু জেলেরা প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে গভীর রাতে নদীতে জাটকা আহরণ করে। পরে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত স্থানীয় এই হাটে এনে সেগুলো বিক্রি করা হয়। এতে সরকারের জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের বংশবিস্তার কর্মসূচি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে।
মোবারক হোসেন নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, আলমগীর, কালু বেপারী, শহীদ শেখ ও শাহ আলম খানসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী নিয়মিত এই হাটে জাটকা বিক্রি করছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নৌ পুলিশ বা কোস্ট গার্ডের লোকজন কি এসব দেখেন না? আমরা চাই দ্রুত অভিযান চালিয়ে এই প্রকাশ্য অনিয়ম বন্ধ করা হোক।
এ বিষয়ে হরিণা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বোরহান বলেন, হরিণাঘাটে জাটকা বিক্রি হয় না। তবে আখনের হাটটি আমাদের ফাঁড়ি থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় সেখানে বিক্রি হতে পারে। আমি বিষয়টি মৎস্য বিভাগকে জানিয়েছি। তারা আমাদের সাথে যোগ দিলে দ্রুত সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকায় জাটকা নিধনকারী ও অসাধু ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন