পরিবেশ মন্ত্রী

চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং দমন করে নিরাপদ সমাজ গড়তে হবে

ফেনী প্রতিনিধি প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং দমন করে নিরাপদ সমাজ গড়তে হবে

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য আগে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কেউ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে না। আর বিনিয়োগ ও উৎপাদন না হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব নয়।

চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধ দমন করে একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে হবে। এ কাজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি এ বিষয়ে পুলিশকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

সোমবার বিকেলে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর দেশে প্রায় ২২ থেকে ২৪ লাখ মানুষ নতুন করে কর্মবাজারে প্রবেশ করে। কৃষি খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় সেখান থেকে অনেক শ্রমিক অন্য পেশায় চলে আসছে। এ অবস্থায় কর্মসংস্থান বাড়াতে বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর দেশে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসেছে। যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসে, তাদের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে চাঁদাবাজির কারণে অনেক বিনিয়োগকারী বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়েছেন। একই কারণে দাগনভূঞায় তার প্রতিষ্ঠিত দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পরিবেশমন্ত্রী তার নির্বাচনি এলাকা দাগনভূঞা ও সোনাগাজীর শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। 

দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিদুল আলমের সঞ্চালনায় সভায় মন্ত্রী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং ধাপে ধাপে সমস্যাগুলোর সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এর আগে, তিনি উপজেলার রামনগর ইউনিয়নে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট স্থাপনের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন এবং উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

সভায় বক্তব্য রাখেন দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সানজিদা মাহবুব, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. মাছুম বিল্লাহ এবং ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মো. ফুয়াদ হাসান।

এ সময় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এএন