ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার গোলকপুর গ্রামের বাসিন্দা দিবাকর চন্দ্র দাসের একমাত্র কন্যা মালতী রানী দাস (২৮) চার মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মার্চ ২০২৬ মালতী রানী দাস তার স্বামী নিঝুম চন্দ্র দাস (৩৮) ও দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বড় ভাইয়ের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। রাতের খাবার শেষে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়লে গভীর রাতে মালতীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘুমন্ত অবস্থায় মালতী রানী দাসকে তার স্বামী নিঝুম চন্দ্র দাস কোদাল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। তার চিৎকার শুনে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে টানা চার মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (১৭ জুলাই) তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় হামলার পর লক্ষ্মীপুরের রামগতি থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পারিবারিক সূত্র জানায়, মামলাটির নম্বর ৩/২৬। ভুক্তভোগীর মৃত্যুর পর তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও আইন অনুযায়ী মামলাটি প্রয়োজনীয় ধারায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে রামগতি থানার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহতের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
মালতী রানী দাসের মৃত্যুর খবরে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার গোলকপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনার দ্রুত বিচার এবং অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন