মাগুরা জেলায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ও সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে অর্ধশতাধিক ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ এর তোয়াক্কা না করে এসব ভাটা চলায় পরিবেশের পাশাপাশি কৃষিজমি ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঈদের পরপরই জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
পরিবেশ অধিদপ্তর মাগুরা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শোয়াইব মোহাম্মদ শোয়েব জানান, মহম্মদপুরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার অবৈধ ভাটাগুলোর ওপর নজরদারি চলছে। ঈদের পর এসব ভাটার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, মাগুরা সদর ও মহম্মদপুর উপজেলাসহ জেলায় শতাধিক ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৬০টি গড়ে উঠেছে তিন ফসলি জমি ও মধুমতী নদীর সীমানা দখল করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১০২টি ভাটার মধ্যে মাত্র ৩টি ভাটা বৈধ। তালিকায় সোহান ব্রিকস, ফোরস্টার, হক, স্টার, এইচএন, মোল্যা, এমএমএন, ফাতেমা, এসএমবি, একতা, মায়ের দোয়া, বি অ্যান্ড এসসহ অসংখ্য ভাটার নাম উঠে এসেছে।
মহম্মদপুর এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব ভাটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির খুব কাছে স্থাপিত। ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া ও ছাইয়ে ফসলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং গাছপালা মরে যাচ্ছে। বাগবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, "শীত ও শুষ্ক মৌসুমে ধুলার কারণে বাড়িতে থাকা দায় হয়ে পড়ে। গাছপালাও ঠিকমতো বাড়ে না।"
অন্যদিকে, ভাটা মালিকদের দাবি তারা প্রযুক্তি পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। মেসার্স একতা ব্রিকসের মালিক মো. লাভলু মিয়া জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চললেও লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে।
ইট প্রস্তুত আইন অনুযায়ী, ছাড়পত্র ছাড়া ভাটা চালালে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এ বিষয়ে জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ ইটভাটাগুলো দ্রুত বন্ধের দাবি জানিয়েছেন মাগুরার সচেতন নাগরিক সমাজ।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন