ত্রাণমন্ত্রী

তিস্তা আমার মায়ের মতো ছিল, এখন বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেছে

সাইফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
তিস্তা আমার মায়ের মতো ছিল, এখন বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেছে

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, “তিস্তা আমার মায়ের মতো ছিল, কিন্তু এখন এটি বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেছে। নদীশাসন ও মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে তিস্তা নদীকে নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

শনিবার কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সুভারকুটি গ্রামে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কড়াই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন আনা সম্ভব। অল্প সময়ের মধ্যেই এ প্রকল্পের কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলা হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি পিপিএম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড ডিরেক্টর জামাল উদ্দিনসহ অনেকে।

এদিকে এক লাখ মানুষের ইফতার আয়োজনের জন্য নির্মিত কড়াইটি সম্পর্কে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের কমিউনিকেশন অফিসার মিজানুর রহমান জানান, কড়াইটির ব্যাস ৩১ ফুট ৩ ইঞ্চি, উচ্চতা সাড়ে ৪ ফুট এবং ওজন প্রায় ৪ হাজার কেজি। কড়াইটির নিচে ২২টি বার্নার রয়েছে। বর্তমানে এটিই বিশ্বের সর্ববৃহৎ কড়াই বলে দাবি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড ডিরেক্টর জামাল উদ্দিন বলেন, “মূলত একসঙ্গে অনেক মানুষের জন্য খাবার প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে কড়াইটি নির্মাণ করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলায় দুর্যোগ ও বন্যাকবলিত হাজার হাজার মানুষ যাতে একসঙ্গে খাবার পায়, সে লক্ষ্যেই এটি তৈরি করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, উদ্বোধনের দিন ২০ হাজার মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে, যা জেলার একশটি মসজিদের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট জেলার বড়বাড়ি এলাকায় মন্ত্রীর উপস্থিতিতে আরও ৫ হাজার মানুষ একসঙ্গে ইফতার করবেন।

এএন