নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সরঞ্জামাদি না কিনে ভুয়া বিল-ভাউচারে টাকা উত্তোলনের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার সরঞ্জামাদি না কিনে ভুয়া বিল-ভাউচারে টাকা উত্তোলনের ঘটনা সংবাদে প্রকাশিত হওয়ায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে।
রোববার মাউশির ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক মোহা. নাসির উদ্দীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ধরণের সরঞ্জামাদি কেনার জন্য ৫ লাখ ৬১ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে সাইন্স ল্যাবের রাসায়নিক, বইপুস্তক, গবেষণা সরঞ্জাম, শিক্ষা উপকরণ, ক্রীড়া সামগ্রীসহ নানা সরঞ্জামাদি সরবরাহ করার কথা ছিল। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ২২ ডিসেম্বর নেত্রকোনার মেসার্স ইউনিপ্যাক এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পায়। প্রতিষ্ঠানটির সত্ত্বাধিকারী আল আমিন।
নিয়মানুযায়ী, সহকারী শিক্ষক ও ক্রয় সংক্রান্ত উপ-কমিটির সমন্বয়ে সরঞ্জামাদি গ্রহণ ও যাচাই করা হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সমঝোতা করে ঠিকাদার সরঞ্জামাদি না কিনেই ভুয়া বিল ভাউচার জমা দেয়। এরপর উপ-কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং প্রধান শিক্ষকের প্রত্যায়ন প্রদানের মাধ্যমে ১১ জানুয়ারি হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার ২৫৫ টাকা উত্তোলন করা হয়। ফলে বিদ্যালয় সরঞ্জামাদি থেকে বঞ্চিত হয়।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও ক্রয় কমিটির সদস্য আজিজুল হক বলেন, “কমিটির সদস্য হলেও আমি কিছু জানি না। কোন মালামালও পাইনি। প্রধান শিক্ষকের কথা মতো স্বাক্ষর করেছি মাত্র।”
ঠিকাদার আল আমিন বলেন, “সব সরঞ্জামাদি কমিটির সামনে যথাযথভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যায়ন নিয়ে টাকা উত্তোলন করেছি। নিয়ম ভঙ্গ হয়নি।”
এদিকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, “দরপত্র থাকলেও ঠিকাদার কোন উপকরণ দেয়নি। আমরা নগদ টাকা তুলে নিয়েছি। কিছু খরচ খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হয়েছে। উপকরণ এখনও কেনা হয়নি। বিষয়টি অনিয়ম কিনা আমার জানা নেই।”
মাউশির ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক মোহা. নাসির উদ্দীন বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে এসেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। নেত্রকোনা জেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেনকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।”
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন