মেহেরপুরে সরকারি অফিসে চাঁদা দাবির অভিযোগে কথিত সাংবাদিক আটক

মেহেরপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: মার্চ ১৫, ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
মেহেরপুরে সরকারি অফিসে চাঁদা দাবির অভিযোগে কথিত সাংবাদিক আটক

মেহেরপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসে দুই কর্মকর্তার কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে আব্দুর রউফ নামে এক কথিত সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার সকাল ১১টার দিকে মেহেরপুর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসে এ ঘটনা ঘটে। আব্দুর রউফ শহরের মল্লিক পাড়ার মৃত জমির উদ্দিনের ছেলে।

অভিযোগ রয়েছে, আব্দুর রউফ বর্তমান মন্ত্রীপরিষদ গঠনের পর থেকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নিজেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।

সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আব্দুর রউফ তার নিজ আইডিতে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কিছু সেলফি প্রকাশ করেন। এরপর থেকে সেই ছবি দেখিয়ে নিজের প্রভাব ও ক্ষমতা জাহির করতে থাকেন।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসের পরিসংখ্যানবিদ আকরাম হোসেন জানান, ৫ আগস্টের পর থেকেই আব্দুর রউফকে এবং অফিসের প্রধান সহকারী মোশারফ হোসেনকে বিভিন্ন সময় অফিসের কাগজপত্র চেয়ে অনিয়মের মিথ্যা অভিযোগ এবং বদলী হুমকি প্রদর্শন করে মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিক বার হুমকি দিত।

সরকার গঠনের পর আব্দুর রউফ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নিজেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে বারবার হুমকি দিতে থাকেন এবং ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট করেন। একপর্যায়ে তিনি ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। রবিবার সকালে অফিসে এসে একই দাবি করেন। একপর্যায়ে চাপ প্রয়োগ করলে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ এসে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

মেহেরপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আঞ্জুমান আরা বলেন, “আমি যখন অফিসে থাকি না সেই সময়টি বেছে নিয়েই আব্দুর রউফ বারবার আমার অফিসে আসে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমার অফিসের পরিসংখ্যানবিদ আকরাম হোসেন তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে আমি লিখিত আবেদন করব সরকারি কাজে বাঁধা দেওয়ার কারণে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।”

মেহেরপুর সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, “চাঁদাবাজি চেষ্টার অভিযোগে আব্দুর রউফ নামে এক ব্যক্তিকে সদর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসে চাঁদা দাবির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মেহেরপুর সদর থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের হয়েছে।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল মেহেরপুর সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামে এক হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করলে সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই বিকেলে গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামে পল্লী চিকিৎসক আব্দুল মাবুদকে ভীতি দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা গ্রহণ করেন। পরে আরও ২০ হাজার টাকা চাঁদা আনতে গিয়ে আব্দুর রউফকে গণধোলাই করে সেনাবাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হয়। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং কয়েক মাস কারাগারেও ছিলেন।

এছাড়াও ভূয়া চিকিৎসক হিসেবে গাংনী উপজেলার বামন্দী বাজারে ২০১২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্রাম্যমান আদালত তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে। একই অপরাধে ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ মেহেরপুর শহরের মল্লিক পাড়া এলাকায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এএন