রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর যাত্রীবাহী বাসটি উদ্ধারে জোর তৎপরতা চলছে।
বুধবার রাত ১১টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সাহায্যে বাসটি টেনে তোলার কাজ শুরু হয়।
উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, ক্রেনের সাহায্যে বাসের সামনের অংশ ইতিমধ্যে পানির ওপরে তোলা সম্ভব হয়েছে। বাসের দরজাগুলো ভাঙা অবস্থায় দেখা গেছে এবং ভেতর থেকে যাত্রীদের স্কুলব্যাগ, জুতা ও ভ্যানিটি ব্যাগসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রী ভেসে উঠছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য দুর্ঘটনাস্থলে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ নিশ্চিত করেছেন যে, এখন পর্যন্ত দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা বর্তমানে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা আছে। ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন জানান, বাসে থাকা প্রায় ৪০ জন যাত্রী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
বুধবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা বাসটি দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে মাত্র সাতজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। বাসের যাত্রী আব্দুল আজিজুল জানান, তিনি নিজে প্রাণে বাঁচলেও তার স্ত্রী ও সন্তান এখনও নিখোঁজ।
উদ্ধার কাজ চলাকালে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, উদ্ধারকারী জাহাজ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব করেছে। তাদের দাবি, সময়মতো উদ্ধার অভিযান শুরু হলে প্রাণহানির ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতো।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন