গরু চোরের সঙ্গে পুলিশের গোপন যোগাযোগ ফাঁস, চুরির আগে এসআইকে বলে যেত চোর!

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
গরু চোরের সঙ্গে পুলিশের গোপন যোগাযোগ ফাঁস, চুরির আগে এসআইকে বলে যেত চোর!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় গরু চুরির ঘটনায় আটক এক চোরের সঙ্গে পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই)-এর কথোপকথনের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দশানি গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়ার একটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এ সময় স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে সন্দেহভাজন চোর আলাল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে গরুটি উদ্ধার করেন। পরে আলাল মিয়া চুরির বিষয়টি স্বীকার করেন বলে দাবি করেন এলাকাবাসী। চোর আলালের বাড়ি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার জগন্নাথপুর হলেও তিনি বসবাস করেন পাশের ইউনিয়ন বাঁশগাড়ি গ্রামে।

এ সময় স্থানীয়রা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করলে সেখানে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগের বিভিন্ন তথ্য দেখতে পান বলে জানান তারা। ইমো অ্যাপে ভয়েস মেসেজ, চ্যাট ও ফোনালাপের আলামত পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের কাছে আলাল মিয়া দাবি করেন, তিনি একসময় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ওই সময় এসআই মাসুদ তাকে ধরতে তার বাড়িতে গেলে পরে ফোনে যোগাযোগ হয় এবং সেখান থেকেই সম্পর্কের সূত্রপাত।

তার অভিযোগ, পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তিনি ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে টাকা দিতেন এবং বিনিময়ে সহযোগিতা পেতেন। সর্বশেষ গরু চুরির সময়ও তিনি এসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে দাবি করেন। গরু চুরির আগে এসআইকে কল দিয়ে চুরি করতে যাচ্ছেন বলে জানান এবং অসুবিধা হলে সহযোগিতার কথা বলেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই মোহাম্মদ মাসুদ ভিন্ন কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি তাকে না চিনেই ইমোতে কথা বলেছি এটা সত্য। তার সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।”

এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, “দশানি গ্রামের গরু চুরির ঘটনায় আলাল মিয়া নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। আমাদের এক স্টাফের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়টি আমরা শুনেছি। যদি অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।