ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: ১২ দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু, ভর্তি ৬৮

আব্দুল্লাহ আল আমীন, ময়মনসিংহ প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: ১২ দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু, ভর্তি ৬৮

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ১২ দিনে এই ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হওয়ায় জেলাজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার দুপুর পর্যন্ত বিশেষায়িত হাম আইসোলেশন ইউনিটে ৬৮ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ১৭ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১০৬ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে এখানে ভর্তি হয়েছে। হঠাৎ করে শিশুদের মধ্যে এই অত্যন্ত সংক্রামক রোগের বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

শনিবার রাতে নেত্রকোনার কলমাকান্দার ছয় মাস বয়সী শিশু নুরুন্নবী এবং বিকেলে ময়মনসিংহ সদরের চরগোবদিয়া গ্রামের সাত মাস বয়সী শিশু লিয়ন মারা যায়। লিয়নের পরিবার জানায়, নিউমোনিয়া থেকে সুস্থ হওয়ার পরপরই তার শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দেয়। বর্তমানে চিকিৎসাধীন শিশুদের মধ্যে নেত্রকোনা, শেরপুর ও জামালপুর জেলা থেকে আসা রোগীর সংখ্যাই বেশি।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ২৪ মার্চ তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে এবং ১০ শয্যার একটি ‘হাম কর্নার’ চালু করা হয়েছে। তবে রোগীর চাপ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সেখানে স্থানসংকট দেখা দিয়েছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন ভবনের ৮ম তলায় একটি বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।

শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আক্তারুজ্জামান জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ করছেন। টিকাদানে কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ যা হাঁচি-কাশি বা সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দেওয়ায় মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

জেএইচআর