রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় ২০১৯ সালে বন্য হাতির আক্রমণে মেশি মারমা নামের এক নারী নিহতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তিন লাখ টাকার সরকারি চেক প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগ রাঙামাটি বিভাগীয় কার্যালয়ে নিহতের স্বামী পাইঅং মারমার হাতে এই চেক তুলে দেওয়া হয়। চেক হস্তান্তর করেন রাঙামাটি বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-বন সংরক্ষক মোহাম্মদ গোলাম কুদ্দুস ভূঁইয়া।
চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে উপ-বন সংরক্ষক মোহাম্মদ গোলাম কুদ্দুস ভূঁইয়া বলেন, বন্য প্রাণী কোনো কারণে লোকালয়ে আসলে তাকে মারা বা আক্রমণ করা যাবে না। বন্য প্রাণীকে তার মতো থাকতে দিতে হবে। এরপরও মানুষের জান-মালের ক্ষতি হলে সরকার ক্ষতিপূরণ দিয়ে সেই ক্ষতি কিছুটা প্রশমন করার চেষ্টা করে। আপনি বন্য প্রাণীকে আক্রমণ না করলে তারা আপনাকে আক্রমণ করবে না। জীবন রক্ষায় সব সময় বন্য প্রাণী থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন বিধিমালা অনুযায়ী বন্য প্রাণীর আক্রমণে কেউ মারা গেলে যথাযথ নিয়মে আবেদন করলে তার পরিবারকে ৩ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। এছাড়াও কেউ গুরুতর আহত হলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা এবং বনাঞ্চলের বাইরে বন্য প্রাণীর দ্বারা ফসল বা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে।
রাঙামাটি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. তবিবুর রহমান জানান, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এই ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না। যেমন- সরকারি বনাঞ্চলের অভ্যন্তরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশের ফলে কেউ আক্রান্ত হলে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বন্য প্রাণীকে আঘাত করার সময় আহত হলে কিংবা সীমান্তে ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ এলাকায় আক্রান্ত হলে এই অর্থ দেওয়া হয় না। এছাড়া সাফারী পার্কের ঝুঁকি ভাতা প্রাপ্ত কর্মচারীরাও এই সুবিধার আওতায় পড়বেন না।
অনুষ্ঠানে কাউখালী উপজেলার কাশখালী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল জলিল, সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর গফুরসহ বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন