জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ের পর তার পরিবার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরে কবরের পাশে আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, “বিচারে মাত্র দুইজনের ফাঁসি হয়েছে। আরও অনেক অপরাধীর শাস্তি হওয়া উচিত ছিল। আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট নই। অনেক আসামি তো ছাড়পত্র পেয়ে গেছে, যারা প্রকৃত অপরাধী।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “দুই ফাঁসিপ্রাপ্ত আসামি মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের সামান্য শাস্তি পেয়েছেন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি পোমেল বড়ুয়া আবু সাঈদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি খারাপ আচরণ করেছে এবং হত্যার সঙ্গে জড়িত। তাকে মাত্র ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দণ্ড প্রদান করা হয়েছে। দুই পুলিশ সদস্য- সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম নয়ন ও এসআই বিভূতিভূষণ রায়।
বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন বেরোবির শিক্ষক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মন্ডল, সাবেক ভিসি হাসিবুর রশিদ, সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান (১০ বছরের কারাদণ্ড), ডা. সারোয়াত হোসেন, সাবেক এডিসি আবু মারুফ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম (৫ বছরের কারাদণ্ড)। এছাড়া, বেরোবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, সহ-সভাপতি ফজলে রাব্বী ও আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ ও ধনঞ্জয় কুমার, দফতর সম্পাদক বাবুল হোসেনকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মকবুল হোসেনের মতে, রায় অবশ্যই একটি পদক্ষেপ, কিন্তু অপরাধীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন