পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ঐতিহ্যবাহী সরকারি হাতেম আলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার স্বাক্ষরিত এই শোকজ নোটিশের অনুলিপি ইতোমধ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে পৌঁছেছে।
গত ৩ এপ্রিল বিভিন্ন পত্রিকায় মঠবাড়িয়ায় সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে লুটপাটের রাজত্ব শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, অর্থ আত্মসাৎ ও নীতিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের পাহাড়সম অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, ২০২৬ সালের এসএসসি টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের ফরম পূরণের প্রলোভন দেখিয়ে এবং অফিস খরচের নামে রসিদ ছাড়াই প্রতিটি বিষয়ের জন্য ১০০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে।
এছাড়া সরকারি নিয়ম ভেঙে খণ্ডকালীন শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন বাবদ প্রতি ছাত্রীর কাছ থেকে জোর করে ৩০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। অভিভাবক মোস্তাফিজুর রহমান ফিরোজ অভিযোগ করেন, কোচিং করানোর কথা বলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা করে নেওয়া হলেও কোনো কোচিং করানো হয়নি। এমনকি গত তিন বছর ধরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকাও বিতরণ না করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে।
অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখার পরিবর্তে ‘রবিন স্টোর’ নামক একটি নির্দিষ্ট দোকান থেকে ড্রেস ও জুতা কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করেন। ল্যাবরেটরি সুবিধা থাকলেও সেখানে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। এছাড়া বিদ্যালয়ের শৌচাগার ও আঙিনা অপরিচ্ছন্ন থাকায় ছাত্রীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা নেমে এসেছে।
এর পাশাপাশি সরকারি ও জাতীয় দিবস যেমন- ২১শে ফেব্রুয়ারি ও ২৬শে মার্চে তিনি প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন এবং বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়নি। পরে উপজেলা বিএনপির সদস্য নিজামুল কবির মিরাজ তাঁকে মুঠোফোনে কল করে প্রতিষ্ঠানে আনেন, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. রুহুল আমিন দুলাল জানিয়েছিলেন, সরকারি দিবসে প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতির বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আকলিমা আক্তার বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাতে বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সকল অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষক আখতার হোসেনকে শোকজ করা হয়েছে। অভিযোগের সঠিক জবাব দিতে না পারলে তাঁর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন