একসময় কারাগারের খাবার নিয়ে বন্দিদের নানা অভিযোগ শোনা যেত। রুটির মান, স্বাদ কিংবা প্রস্তুত প্রক্রিয়া নিয়ে ছিল নানা প্রশ্ন। তবে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। বন্দিদের জন্য উন্নতমানের খাবার নিশ্চিত করতে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে যুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় রুটি মেকার। এতে প্রতিদিন অল্প সময়ে স্বাস্থ্যসম্মত, সমান আকৃতির ও উন্নত মানের রুটি তৈরি হচ্ছে।
আধুনিক এই মেশিনে ময়দা মেশানো থেকে শুরু করে রুটি বেলা, সেঁকা ও প্রস্তুত সবকিছুই হয় যান্ত্রিকভাবে। আগের তুলনায় কম সময়ে অধিক সংখ্যক রুটি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে, রুটির গুণগত মানও নিশ্চিত করা যাচ্ছে বলে জানায় কারা কর্তৃপক্ষ। কারাগারে থাকা কয়েকজন বন্দির সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, নতুন মেশিনে তৈরি রুটির স্বাদ আগের তুলনায় অনেক ভালো। রুটি নরম, সমানভাবে সেঁকা এবং মানও উন্নত। বন্দিদের খাবারের মান উন্নয়নে এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় উল্লেখ করে তাঁরা কারা মহাপরিদর্শককে ধন্যবাদ জানান।
কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাসুদ হাসান জুয়েল জানান, কারাগারের সাবেক জেলার ও বর্তমান অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কে এম মাসুম জেলার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কারাগারে আধুনিক রুটি মেকার স্থাপনের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন কারা মহাপরিদর্শকের কাছে। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পেরে কারা মহাপরিদর্শক দ্রুত উদ্যোগ নেন। পরে চীন থেকে অত্যাধুনিক রুটি মেকার এনে কারাগারে স্থাপন করা হয়।
এই বিষয়ে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, "হাতে বানানোর ক্ষেত্রে আমাদের প্রচুর একটা সময় ব্যয় হতো। সারারাত ধরে তৈরি করার পরেও যথাসময়ে হয়তো কাঙ্ক্ষিত রুটিটা আমরা তৈরি করতে পারতাম না। কিন্তু এখন আমাদের এই রুটি মেকারের মাধ্যমে প্রতি ঘণ্টায় আমরা প্রায় ১,০০০টি রুটি তৈরি করতে পারছি।"
তিনি আরও বলেন, এই রুটি মেকারে সুন্দর একটা মাপমতো রুটি তৈরি করে বন্দিদের হাতে পৌঁছায় দিতে পারা যায়। আগে হাতে বানানোর সময় কিছু আটা অপচয় হয়ে যেত, এখন সেটা সাশ্রয় করা যাচ্ছে। আগে ৩০ থেকে ৪০ জন বন্দি সারারাত জেগে রুটি বানানোর কাজ করত। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকার পাশাপাশি তাদের শারীরিক পরিশ্রমটা অনেক বেশি ছিল। এখন পরিশ্রম ছাড়াই ইলেকট্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত রুটি মেকার থেকে খুব মানসম্মত রুটি পাওয়া যাচ্ছে, বন্দিরা শুধু মনিটরিং করছেন।
কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে আরও দুটি আধুনিক রুটি মেকার সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে এবং আরেকটি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব বড় কারাগারে এই ধরনের আধুনিক রুটি মেকার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের কোনো আলাদা বরাদ্দ নেওয়া হয়নি। কারা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে আধুনিক এই যন্ত্র সংগ্রহ করেছে। কারাগারকে আরও মানবিক, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বন্দিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করাই এই সব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন