কাফনের কাপড় পাঠিয়ে আতঙ্ক ছড়ানো, মহিলা কলেজে চাঞ্চল্য, তদন্তে পুলিশ

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
কাফনের কাপড় পাঠিয়ে আতঙ্ক ছড়ানো, মহিলা কলেজে চাঞ্চল্য, তদন্তে পুলিশ

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজে দুই শিক্ষকের নামে ডাকযোগে কাফনের কাপড় পাঠানোর ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রহস্যজনক এই ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজ ছুটির সময় অফিস সহকারী রাফিজা খাতুন ডাকযোগে আসা দুটি রেজিস্ট্রি পার্সেল গ্রহণ করেন।

রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে কলেজ খোলার পর পার্সেল দুটি খোলা হলে দেখা যায়, প্রত্যেকটিতে এক সেট করে সাদা কাফনের কাপড় রয়েছে। ঘটনাটি দ্রুত জানাজানি হলে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ভীতি ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পার্সেল দুটি পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলা থেকে পাঠানো হয়েছে। এগুলো কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন এবং ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুস সামাদের নামে পাঠানো হয়েছে। পার্সেলে কোনো ফোন নম্বর উল্লেখ না থাকলেও ‘জনি শেখ’ ও ‘লিখন হোসেন’ নামে দুই ব্যক্তির নাম প্রেরক হিসেবে লেখা রয়েছে।

কলেজ সূত্রে আরও জানা যায়, কলেজের আয়-ব্যয় সংক্রান্ত বিষয় তদন্তে সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। এই তদন্তের সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে গুঞ্জন চলছে। 

তবে ভুক্তভোগী দুই শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ও আব্দুস সামাদ বলেন, “আমাদের কারো সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। কে বা কারা এমন কাজ করেছে তা বুঝতে পারছি না। বিষয়টি নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হবে।”

কলেজের অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দিন এবং গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক ওমর আলী জানান, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও রহস্যময় ঘটনা। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে এবং গুরুদাসপুর থানাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর আলম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ডাকঘরের তথ্য ও পার্সেলের সূত্র ধরে এর পেছনে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেএইচআর