দৌলতপুরে উত্তেজনা, বাউল শিল্পী শফি মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
দৌলতপুরে উত্তেজনা, বাউল শিল্পী শফি মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় এক পীর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে দেশের প্রখ্যাত বাউল শিল্পী শফি মণ্ডলের গ্রামের বাড়িতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সম্প্রতি দৌলতপুরের ফিলিপনগর এলাকায় একটি দরবার শরিফে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পীর আব্দুর রহমান শামীম (যিনি কালান্দার বাবা নামে পরিচিত) নিহত হন। মূলত একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত। ওই ভিডিওতে পীর শামীমের পক্ষ থেকে কোরআন অবমাননাকর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ভিডিওটিতে পীরের পাশে বসা অবস্থায় বাউল শিল্পী শফি মণ্ডলকে দেখা যায়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে ঘিরে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং ‘মব জাস্টিস’-এর আশঙ্কা দেখা দেয়।

দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, শফি মণ্ডলের বাড়িতে হামলার নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শফি মণ্ডল বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং গত এক মাস ধরে তিনি গ্রামের বাড়িতে নেই। বাবার নিরাপত্তা ও ছড়ানো বিভ্রান্তি নিয়ে শিল্পীর মেয়ে লিনা মণ্ডল বলেন, আমার বাবা একজন সাধক ও সংগীতশিল্পী। তিনি বিভিন্ন দরবারে সংগীত পরিবেশনের জন্য যাতায়াত করেন। ভাইরাল হওয়া ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে একটি পক্ষ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমরা লালন দর্শনের অনুসারী হলেও আমাদের জীবনাচরণ ইসলামিক। বাবার জনপ্রিয়তার কারণেই সরকার এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

বর্তমানে পীর শামীমের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হলেও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। স্থানীয়রা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য যাচাই ছাড়া বিভ্রান্তি ছড়ানোর ফলে এই ধরণের মব জাস্টিসের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি।

জেএইচআর