ফেনীতে সংস্কারের জন্য ভেঙে ফেলা শহীদ জহির রায়হান হলের ফাঁকা জায়গায় ‘তাঁতবস্ত্র ও হস্তশিল্প মেলা’ ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বুধবার ব্যবসায়ীদের আপত্তি উপেক্ষা করে মাসব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার ফিতা কেটে এ মেলা উদ্বোধন করেন।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের মেলার আয়োজন শহরের স্থায়ী ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার সুযোগ তৈরি করছে।
মেলা বন্ধ রাখতে গত ২ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কাছে ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল স্বাক্ষরিত আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, “ফেনীতে প্রতি কয়েক মাস অন্তর অন্তর বিভিন্ন ধরনের মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ফেনীর যেসব ব্যবসায়ীবৃন্দ আছেন তারা লোকসানের মুখে পড়েন।
এসব মেলায় মানহীন পণ্য বিক্রিসহ ফেনীর কোনো স্থানীয় ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ বা কোনো প্রকার স্টল নিতে পারেন না। যারা উক্ত মেলাগুলোতে স্টল ভাড়া নেন তারা সবাই বহিরাগত ব্যবসায়ী। কিন্তু ফেনী জেলার যেসব স্থানীয় ব্যবসায়ী নিয়মিত ভ্যাট-ট্যাক্স প্রদান করে আসছেন তাদের ব্যবসা এখন হুমকির মুখে পড়ছে। শহরে ব্যবসায়ীদের জন্য এই কথিত মেলা খুবই হুমকিস্বরূপ।”
এদিকে বৃহস্পতিবার মেলার দ্বিতীয় দিন বিভিন্ন স্টলে ঘুরে তাঁত, বস্ত্র ও হস্তশিল্পের পণ্যের তেমন উপস্থিতি চোখে পড়েনি। স্টলগুলোতে প্লাস্টিক সামগ্রী, গৃহস্থালি পণ্য, কসমেটিকস সামগ্রী, চশমা, নারীদের বিভিন্ন সামগ্রী, চাইনিজ পণ্য, ইলেকট্রিক সামগ্রী, বাচ্চাদের খেলনা ও বিভিন্ন খাবারের দোকান রয়েছে। মেলায় এক বিক্রেতা জানান, চাইনিজ পণ্যই বেশি।
শহরের গ্র্যান্ড হক টাওয়ারের পরিচালক ইমন-উল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বন্যা, আন্দোলন-সংগ্রামে ফেনীর ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত। এক বছর পরপর আয়োজিত এ মেলা ফেনীর ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিকর।
তিনি আরও বলেন, নামে তাঁত ও বস্ত্র মেলা হলেও এতে এ ধরনের কোনো পণ্য নেই। চাইনিজ ও বিভিন্ন নিম্নমানের পণ্য এনে বিক্রি করা হচ্ছে। ফেনীবাসীকে ঠকিয়ে টাকা কামিয়ে তারা চলে যাচ্ছে। এ ধরনের মেলা চলতে থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বার্থবিরোধী হয়ে উঠবে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন