নানা আয়োজনে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ী দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার সকালে জেলার রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পের পাশে বড়াইবাড়ী যুদ্ধে শহীদ তিন সাবেক বিডিআর সদস্যের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিফলকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে বিএনপিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ।
কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, চর রাজিবপুর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান, রৌমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আব্দুর রাজ্জাক, সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু, রৌমারীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইমান আলীসহ মো. মোজাফফর ও নাসির উদ্দীন।
আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদদের স্মরণে স্থায়ী স্মৃতিফলক নির্মাণ এবং দিবসটি সরকারি ভাবে পালনের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী সীমান্তে তৎকালীন বিডিআর, গ্রামবাসী ও বিএসএফের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। সেদিন ভোররাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বিনা উসকানিতে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে বড়াইবাড়ী গ্রামে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং ধ্বংসযজ্ঞ চলে। তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) ও গ্রামবাসীরা একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় বিএসএফ। এ সময় সংঘর্ষে ৩৩ রাইফেল ব্যাটালিয়নের ল্যান্স নায়েক ওহিদুজ্জামান, সিপাহী মাহফুজার রহমান এবং ২৬ রাইফেল ব্যাটালিয়নের সিপাহী আব্দুল কাদের শহীদ হন। অপরদিকে বিএসএফের ১৬ সদস্য নিহত হন।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন