বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম বলেছেন, বিশ্বের প্রতিটি পেশার ক্ষেত্রে একটি নীতিমালা রয়েছে। চিকিৎসক হতে হলে মেডিকেলে পড়ালেখা শেষে বিএমডিসির নিবন্ধন নিতে হয়, আইনজীবী হতে হলে বার কাউন্সিলে পরীক্ষা দিতে হয় এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ থাকতে হয়। অথচ সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে নেই কোনো নীতিমালা। চাইলেই যে কেউ সাংবাদিক হতে পারে এজন্য শুধু একটি কলম, ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনই যথেষ্ট। এতে সমাজে বাড়ছে অপসংবাদিকতা। এটি এখনই রোধ করা না গেলে সাংবাদিকতা পেশা কলঙ্কিত হয়ে যাবে। তাই দ্রুতই শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া কেউ সাংবাদিক না হতে পারেন এমন নীতিমালা তৈরি করতে যাচ্ছে সরকার।
বুধবার দুপুরে মেহেরপুরে সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আয়োজিত মেহেরপুর জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে “গণমাধ্যমের অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন” বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে নিজেদের সচেতন হতে হবে। জানতে হবে শ্রম আইন। কারণ সাংবাদিক মানেই একজন শ্রমিক। দাবি-দাওয়া আদায়ের জন্য শ্রমিক আইনের শরণাপন্ন হতে হবে তাদের। এছাড়া সাংবাদিকদের শ্রমিক ইউনিয়ন থাকা বাধ্যতামূলক এবং নিবন্ধন থাকতে হবে। এটি ছাড়া দাবি-দাওয়া আদায় কখনোই সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়। রিসোর্স পার্সন হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব (উপসচিব) আবদুস সবুর এবং মেহেরপুর জেলা তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ।
সেমিনার ও কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত প্রায় ৪০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা মুক্ত আলোচনায় নিজেদের মতামত তুলে ধরেন এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে এ ধরনের আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শেষে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন