চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় ঝালকাঠি জেলাজুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। সদর, নলছিটি, রাজাপুর ও কাঠালিয়া এই চার উপজেলায় ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন এখন ওষ্ঠাগত। বিশেষ করে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে ভোগান্তির মাত্রা দ্বিগুণ হওয়ায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় দিনের বেলা বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় তা বেড়ে ২৬ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। তবে গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বরাদ্দ মেলায় নিয়মিত রোটেশন করে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ওজোপাডিকোর উপসহকারী প্রকৌশলী জাকিরুল ইসলাম জানান, গ্রিড থেকে বরাদ্দ কম থাকায় ঘাটতি পূরণে তারা বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখছেন। রাজাপুর উপজেলায় ১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মিলছে মাত্র ৩.৫ মেগাওয়াট।
চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা এই লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নলছিটির পরীক্ষার্থী সুমাইয়া ও ঝালকাঠি শহরের রাকিব জানায়, দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনায় মন বসানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, শহরের ব্যবসায়ীরা জানান, সন্ধ্যার পর দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় এবং ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধের নিয়মের কারণে তাদের লোকসানের পাল্লা ভারি হচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) থেকে ৩৩ কেভি স্ক্যাডা সিস্টেমের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে লোড নিয়ন্ত্রণ করা হয়। গ্রিডে লো ফ্রিকোয়েন্সি দেখা দিলে অনেক সময় স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখা সম্ভব হয় না। বর্তমানে বরিশালের দুটি গ্রিড সাব-স্টেশন থেকে ঝালকাঠিসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, যার সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় রাতের ঘুম হারাম হচ্ছে সাধারণ মানুষের। ইজিবাইক চালকরা ব্যাটারি চার্জ দিতে না পারায় আয়ের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ঝালকাঠিবাসী।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন