আলোহীন ইসলামপুরে জ্বালানির জন্য হাহাকার, ক্ষোভে ফেটে পড়ছে সাধারণ মানুষ

ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
আলোহীন ইসলামপুরে জ্বালানির জন্য হাহাকার, ক্ষোভে ফেটে পড়ছে সাধারণ মানুষ

তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট আর জ্বালানি তেলের হাহাকারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার জনজীবন। গত কয়েকদিন ধরে চলমান এই চরম অচলাবস্থায় স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি না পেয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রচণ্ড গরমে জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন পল্লী বিদ্যুতের দেখা মিলছে খুবই সামান্য। দিনে-রাতে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে পুরো উপজেলা এক ভুতুড়ে অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকছে। এতে বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় রাতের বেলা স্বাভাবিক কাজকর্ম করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের তীব্র অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন থাকলেও মিলছে না পর্যাপ্ত ডিজেল, পেট্রোল বা অকটেন। ডিজেলের অভাবে পৌরশহরের অটো রাইস মিল, ইটের ভাটা ও পরিবহন খাত প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। তেলের সংকটে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী শিক্ষক, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বিপাকে। যানবাহন কমে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও অফিসগামী মানুষ।

বিদ্যুৎ ও ডিজেলের অভাবে সেচ পাম্প বন্ধ থাকায় ফসলি জমি শুকিয়ে যাচ্ছে, যা কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। চাউল কল মালিক সমিতির সভাপতি হাজী নজরুল ইসলাম মিষ্টার বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জেনারেটর চালিয়ে রাইস মিল সচল রাখা এখন অসম্ভব। তার ওপর বাজারে ডিজেলও পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন বড় ধরনের লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন।

বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন পল্লী বিদ্যুৎ দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুরের চলতি দায়িত্বে থাকা ডিজিএম নিরাপদ দাস। তিনি জানান, উপজেলায় ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে তারা সরবরাহ পাচ্ছেন মাত্র ৪ থেকে ৫ মেগাওয়াট। দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চলছে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

জেএইচআর