দেশের পূর্বাঞ্চলের সর্ববৃহৎ মোকাম আশুগঞ্জে বোরো মৌসুমে ধান সরবরাহ কম ও দামের অস্থিরতায় দুশ্চিন্তায় কৃষক-ব্যবসায়ীরা। মোটা ও চিকন ধানে মনপ্রতি সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ কৃষকদের।
কম দামে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত, আর কম মজুরিতে শ্রমিকদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত ধান-চালের মূল্য নির্ধারণে সরকারি হস্তক্ষেপ না হলে সংকট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আশুগঞ্জ মোকামে বর্তমানে মোটা ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতি মন ৬৭০ থেকে ৭১০ টাকায়। আর ৮৮ জাতের ধানের দাম উঠেছে প্রায় ৮৭০ থেকে ৯২০ টাকা মন প্রতি। প্রতিদিন এখানে প্রায় ২০ কোটি টাকার ধান কেনাবেচা হয়, তবে এ বছর এখনো সেই লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারেনি।
এই মোকামে শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া নয়, আশপাশের কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলা থেকেও ধান আসে।
তবে এ বছর পানি বৃদ্ধির কারণে আগের তুলনায় ধানের আমদানি কমেছে। চাহিদা অনুযায়ী বাজারে ধান না আসায় ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বিপাকে।
চলতি মৌসুমে ধানের দাম আগের বছরের তুলনায় কম। ফলে কৃষকরা বলছেন, তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অন্যদিকে শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রতি বস্তায় ১০ টাকা ৫০ পয়সা মজুরি দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
অতিদ্রুত সরকার ধান ও চালের মূল্য নির্ধারণ না করলে কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে মনে করেন আশুগঞ্জ চাতাল মিল মালিক সমিতির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ।
সব মিলিয়ে সরবরাহ সংকট, কম দাম এবং মজুরি অসন্তোষ, এই তিন চাপে এখন চ্যালেঞ্জের মুখে আশুগঞ্জের ধান মোকাম। দ্রুত সরকারি পদক্ষেপের দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন