খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদে আংটিহারা পোল্ডারের বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিনেও মেরামত শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় শাকবাড়িয়া নদীর তীরবর্তী মানুষ দিন কাটাচ্ছেন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ২০২৩ সালের সভায় খুলনার সর্বদক্ষিণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ১৩-১৪/১ নম্বর আংটিহারা পোল্ডারের মেরামত ও নির্মাণকাজে ১ হাজার ১৭২ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে মাটির কাজ শুরু হলেও এখনো তা সম্পন্ন হয়নি।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের দাবি, কাজের অগ্রগতি প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ। তবে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিল বকেয়া থাকায় কাজের গতি ব্যাহত হচ্ছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক রাশেদু জামান বলেন, “মাটির কাজের প্রায় ৭৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়ায় বাকি কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।”
তিনি আরও জানান, মাটির কাজ শেষ হলে নদীর তীর রক্ষায় ব্লক বসানো ও ডাম্পিংয়ের কাজ করা হবে।
আংটিহারা গ্রামের বাসিন্দা কোহিনুর আলম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় আমরা আতঙ্কে আছি। জলোচ্ছ্বাসের ভয় তো আছেই, পাশাপাশি চলাচলেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।” দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, “অর্থ ছাড়ের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করা হবে।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, আসন্ন বর্ষা ও ঘূর্ণিঝড় মৌসুমের আগে বাঁধের কাজ শেষ না হলে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে পুরো এলাকা।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন