সড়কের কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার, ভোগান্তিতে অর্ধলাখ মানুষ

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম
সড়কের কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার, ভোগান্তিতে অর্ধলাখ মানুষ

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারকাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় ছয় মাস ধরে কাজ ফেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উধাও হয়ে যাওয়ায় অর্ধলাখেরও বেশি মানুষের নিত্যদিনের চলাচল এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে জনভোগান্তি কমাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

উপজেলার বিশ্বাসপাড়া থেকে হরেকৃষ্ণপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪ দশমিক ১২ কিলোমিটার সড়কটি ২০২৫ সালের শেষ দিকে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটির দায়িত্ব পায় ‘জেরিন এন্টারপ্রাইজ’। পরবর্তীতে কাজটি কিনে নেন শিপন নামের আরেকজন ঠিকাদার। তবে কাজ শুরুর পর সড়ক খুঁড়ে ফেলে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের উপরের খোয়া উঠে গিয়ে এখন ধুলার স্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যানবাহন চালক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। রায়পাশা গ্রামের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, আগে এই সড়ক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যেত। এখন বাজারে যাওয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইজিবাইক চালক আজগর আলী জানান, রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখার ফলে ধুলার কারণে চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে এবং প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করার অভিযোগ থাকলেও ঠিকাদার শিপনের দাবি, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। তিনি শিগগিরই কাজ শুরুর আশ্বাস দিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে এলজিইডি। মহম্মদপুর উপজেলা প্রকৌশলী গোলজার হোসেন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজ শুরু না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাগুরা জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আ.ন.ম ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা আগামী সপ্তাহের মধ্যে কার্পেটিং শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না হলে চুক্তি বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সড়কটির কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।

জেএইচআর