সালথায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে স্কুল দপ্তরি আটক, ভিডিও ভাইরাল

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
সালথায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে স্কুল দপ্তরি আটক, ভিডিও ভাইরাল

ফরিদপুরের সালথায় গভীর রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় জনতার হাতে আটক হয়েছেন মো. আজাদ শেখ (৩৫) নামে এক স্কুল দপ্তরি। 

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খারদিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আজাদ শেখ ওই গ্রামের বর শেখের ছেলে এবং বড় খারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি হিসেবে কর্মরত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে লোক ঢোকার বিষয়টি টের পেয়ে গ্রামবাসী বাড়িটি ঘিরে ফেলে। পরে ঘরের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে আলমারির ভেতর থেকে খালি গায়ে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় আজাদকে আটক করা হয়। এই ঘটনার একটি ৫৫ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, উৎসুক জনতা তাকে আলমারি থেকে বের করার চেষ্টা করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই নারীর সন্তান বড় খারদিয়া স্কুলে পড়ার সুবাদে দপ্তরি আজাদের সঙ্গে পরিচয় ও পরকীয়া গড়ে ওঠে। মঙ্গলবার রাতে হাতেনাতে আটকের পর আজাদকে পুলিশে না দিয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাকে ছাড়িয়ে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে দেনদরবার চলছে।

ঘটনার বিষয়ে প্রবাসীর স্ত্রী বলেন, রাতে বাড়ি ফিরে তিনি আজাদকে ঘরের ভেতর দেখতে পান। এসময় আজাদ তাকে চুপ থাকতে বললেও প্রতিবেশীরা ঘর ঘিরে ফেললে ভয় পেয়ে তিনি আলমারিতে লুকিয়ে পড়েন। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইরন ঘটনাটি ভিত্তিহীন দাবি করে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।

বড় খারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোরশেদা খান লিমা জানান, আজাদের স্ত্রী ছুটির আবেদন করায় তাকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। তবে লোকমুখে বিষয়টি শুনে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

সালথা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তামেম উদ্দিন জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। প্রশিক্ষণ শেষে রবিবার অফিসে ফিরে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন বলেন, স্কুল দপ্তরি আজাদের বিরুদ্ধে মামলা হলে এবং দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হতে পারে।

জেএইচআর