ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত ইমাম, সন্তানের পিতা কিশোরীর আপন ভাই

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ৭, ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত ইমাম, সন্তানের পিতা কিশোরীর আপন ভাই

ফেনীর পরশুরামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫)।

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ওই কিশোরীর ভূমিষ্ঠ হওয়া সন্তানের প্রকৃত পিতা তার আপন বড় ভাই। মূলত ঘটনা আড়াল করতে পরিকল্পিতভাবে ইমামকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর পরশুরামের এক কিশোরীর (১৪) মা বাদী হয়ে স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মক্তব শিক্ষক মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। ওই কিশোরী সন্তান প্রসব করার পর পরিবারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ তোলা হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ৫ বছর আগে মক্তবে পড়ার সময় থেকেই শিক্ষক তাকে নির্যাতন করেছেন। এই ঘটনায় মোজাফফর আহমদকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি ১ মাস ২ দিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পান।

মামলার তদন্তের শুরুতে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর মোজাফফরের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোরী স্বীকার করে যে, তার আপন বড় ভাই (২২) তাকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছিল।

বিষয়টি গোপন রাখতে এবং লোকলজ্জার ভয়ে পরিবারের সদস্যরা নির্দোষ ইমামকে অভিযুক্ত করেন। এরপর ২০২৫ সালের মে মাসে কিশোরীর ভাইকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আদালতের নির্দেশে কিশোরী, তার শিশু কন্যা এবং অভিযুক্ত বড় ভাইয়ের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয় যে, শিশুটির জৈবিক পিতার ডিএনএ-র সঙ্গে কিশোরীর ভাইয়ের ডিএনএ ৯৯.৯৯ শতাংশ মিলেছে। প্রতিবেদনে স্পষ্ট জানানো হয়, আগে কারাভোগ করা ইমাম মোজাফফর আহমদ এই সন্তানের পিতা নন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শরীফ হোসেন জানান, ধর্ষণের অভিযোগে মোজাফফর আহমদের কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। অপরদিকে, কিশোরীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে একই ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয়েছে এবং নিরপরাধ ব্যক্তিকে মামলা থেকে মুক্তি দিয়ে প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

জেএইচআর