যশোরের চৌগাছায় চলতি বোরো মৌসুমে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। একদিকে কালবৈশাখী ও টানা বৃষ্টি, অন্যদিকে তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে মাঠের ফসল নিয়ে নাজেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। জমিতে কেটে রাখা ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্যমতে, এ বছর চৌগাছায় ১৮ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল এবং অর্জিত হয়েছে শতভাগ। যেখান থেকে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। অধিকাংশ জমির ধান ইতোমধ্যে পেকে গেলেও গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
শুক্রবার উপজেলার ফুলসারা, সিংহঝুলী, পাশাপোলসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, ঝোড়ো হাওয়ায় অনেক ক্ষেতের ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।
নিচু জমিতে কেটে রাখা ধান পানির ওপর ভাসছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা ধান কাটতে সাহস পাচ্ছেন না। কৃষকদের মতে, দিনে আকাশ পরিষ্কার থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হচ্ছে ঝড়-বৃষ্টি।
জাহাঙ্গীর আলম (স্বরুপদাহ গ্রাম): আবহাওয়া ভালো দেখে ধান কেটেছিলাম, কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে সব আটকে গেছে। দ্রুত আবহাওয়া ঠিক না হলে নিচু জমির ধান নষ্ট হয়ে যাবে।
লাবলুর রহমান (পেটভরা গ্রাম): মাঠে ৩ বিঘা ধান কাটা অবস্থায় ভিজে গেছে। এমনকি ধানে গাছ গজাতে শুরু করেছে। বেশি পেকে যাওয়ায় ধান ঝরে পড়ার ভয় থাকলেও বৃষ্টির কারণে কাটতে পারছি না।
কবির হোসেন (আন্দুলিয়া গ্রাম): শ্রমিক সংকটের কারণে দ্বিগুণ মজুরি দিয়েও লোক পাওয়া যাচ্ছে না। আবার বৃষ্টিতে ভিজে ধানের রং নষ্ট হওয়ায় বাজারে ব্যবসায়ীরা দাম কম বলছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসেন জানান, এখন পুরো উপজেলা জুড়েই ধান কাটার ভরা মৌসুম চলছে। তবে অনিয়মিত বৃষ্টির কারণে কৃষকেরা কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা নিয়মিত কৃষকদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিচ্ছি এবং এই সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করছি।”
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন