চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে আয়োজিত সালিস বৈঠকের আগে সংঘর্ষে আলিম উদ্দিন (৫৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। প্রতিপক্ষের কিল-ঘুষি ও মারধরে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে (৬০) আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে শঙ্করচন্দ্র ইউপি চেয়ারম্যান মো. মহিউল আলমের বাসভবনের সামনে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহত আলিম উদ্দিন শঙ্করচন্দ্র গ্রামের মৃত ঝড়ু মণ্ডলের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শঙ্করচন্দ্র গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে আরিফের কাছে ব্যবসা সংক্রান্ত কারণে ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা ছিলেন একই গ্রামের জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে এই টাকা পরিশোধ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য শুক্রবার রাতে ইউপি চেয়ারম্যানের বাসভবনে সালিস বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।
নিহতের ভাই কালু মণ্ডল অভিযোগ করেন, “সালিসে অংশ নিতে জিয়া ও তার চাচা আলিম উদ্দিনসহ কয়েকজন চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় লিয়াকত আলী তার ছেলে ও নাতিকে নিয়ে মোটরসাইকেলে সেখানে আসেন। তারা অতর্কিত আলিম উদ্দিনের ওপর চড়াও হন এবং তার তলপেটে লাথি ও কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। মারধরের একপর্যায়ে তিনি ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।” গুরুতর অবস্থায় তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. মহিউল আলম জানান, “পাওনা টাকা নিয়ে আলোচনার জন্য উভয় পক্ষ আমার বাড়িতে এসেছিল। কিন্তু বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই হঠাৎ মারামারি শুরু হয়। কিল-ঘুষি ও ইটের আঘাতে আলিম উদ্দিন মারা গেছেন।”
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাসিম বলেন, “রাত সাড়ে ৯টার দিকে আলিম উদ্দিনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। স্বজনরা প্রথমে জানিয়েছিলেন তিনি চেয়ার থেকে পড়ে অসুস্থ হয়েছেন, হামলার কথা তখন উল্লেখ করেননি। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।”
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন