কাপাসিয়ায় ৫ খুন: ভাইকে কল করে কি বলছে খুনি?

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ১০, ২০২৬, ১২:৩৭ এএম
কাপাসিয়ায় ৫ খুন: ভাইকে কল করে কি বলছে খুনি?

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে একটি বহুতল ভবনের নিচতলা থেকে এক নারী, তাঁর তিন সন্তান এবং ভাইয়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

শনিবার সকালে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া (৪০) পলাতক রয়েছেন। যাওয়ার আগে তিনি তাঁর ভাইকে ফোনে এই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিরা হলেন- ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), বড় মেয়ে মীম খানম (১৫), মেজো মেয়ে উম্মে হাবিবা (৮), ছোট মেয়ে ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২)। নিহত রসুল গাজীপুরে একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন এবং শারমিনের স্বামী ফোরকান পেশায় একজন প্রাইভেট কার চালক।

নিহত শারমিনের স্বজনদের দাবি, ফোরকান মিয়া আরেকটি বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। এই বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এর আগে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে শারমিন বাবার বাড়িতে থাকলেও পরে ফোরকান তাঁকে বুঝিয়ে আবার নিয়ে আসেন। 

স্বজনরা জানান, গত শুক্রবার শ্যালক রসুলকে নতুন চাকরির প্রলোভন দিয়ে নিজের বাসায় ডেকে আনেন ফোরকান। এরপর রাতে পরিকল্পিতভাবে সবাইকে হত্যা করে সকালে তাঁর ভাই মিশকাতকে ফোন করে বলেন, ‘সব শেষ করে ফেলেছি, সবাইকে মেরে ফেলেছি। আমাকে আর পাবি না।’

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ গোপালগঞ্জ সদর থানায় দায়ের করার উদ্দেশ্যে লেখা একটি সইবিহীন অভিযোগপত্র উদ্ধার করেছে। সেখানে ফোরকান তাঁর শ্বশুর ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

তবে শারমিনের চাচা উজ্জ্বল মিয়ার দাবি, ফোরকান নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে বা ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এসব বানোয়াট অভিযোগ লিখে রেখে গেছেন। প্রকৃতপক্ষে এমন কোনো ঘটনা তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ঘটেনি।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান জানান, সিআইডি ও পিবিআইসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়েছেন। ভোর ছয়টার দিকে তাঁর বাড়িতে কল করে খুনের কথা স্বীকার করার বিষয়টিও যাচাই করে দেখা হচ্ছে। ঘাতক ফোরকানকে গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ।

জেএইচআর