বসতি স্থাপন, বোরো আবাদ কমিয়ে অন্য ফসলের চাষ এবং খাল দখলের কারণে চাঁদপুরের দুটি বড় সেচ প্রকল্পে সেচযোগ্য জমি আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এক সময়ের ৪২ হাজার হেক্টর সেচযোগ্য জমি কমে বর্তমানে ১৫ হাজার হেক্টরে দাঁড়িয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ২৭ হাজার হেক্টর জমি সেচ সুবিধার বাইরে চলে গেছে। পাশাপাশি সেচ প্রকল্পের খালগুলোতে গড়ে উঠেছে সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের ১০০ কিলোমিটার বাঁধে এক সময় ৭ হাজার কিলোমিটার খাল প্রবাহমান ছিল, যা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার কিলোমিটারে। বাকি খালগুলো ভরাট ও অবৈধ দখলের কবলে পড়েছে।
অন্যদিকে, মতলব উত্তরের মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের ১৩৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৪৭টি খাল বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী। বাজার কেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে খালের ওপর গড়ে উঠেছে ৭ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, গত ২৫-৩০ বছর ধরে অনেক খাল খনন করা হয়নি। খালের জমি দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণ ও মাছ চাষের জন্য বাঁধ দেওয়ায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অতিবৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, যা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে। মতলব উত্তর ও সদর উপজেলার কৃষকরা জানান, দ্রুত খাল খনন ও কচুরিপানা পরিষ্কার করা না হলে কৃষি উৎপাদন আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহরুল ইসলাম জানান, খালগুলো সচল করতে পরিকল্পনা কমিশনে একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের তালিকা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম সাহেদ বলেন, ১৩৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম দ্রুতই শুরু হবে।
কৃষকদের দাবি, শুধু পরিকল্পনা নয়, দ্রুত মাঠ পর্যায়ে এই প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হোক।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন