৭ম শ্রেণির মেয়েকে উত্ত্যক্তের জেরে ৪ জনের মাথা ফাটালেন বাবা

হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
৭ম শ্রেণির মেয়েকে উত্ত্যক্তের জেরে ৪ জনের মাথা ফাটালেন বাবা

দিনাজপুরের হাকিমপুরে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরী মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার ক্ষোভে লাঠির আঘাতে চারজনের মাথা ফাটিয়েছেন এক বাবা। এই ঘটনায় পুলিশ ওই বাবাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার মোল্লাবাজার গ্রামের গুচ্ছগ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর মারধরের শিকার হওয়া বখাটের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মেয়েকে উত্ত্যক্তের ঘটনায় মেয়ে পক্ষের কোনো মামলা হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোল্লাবাজার গ্রামের মন্টু মিয়ার বখাটে ছেলে রাহিম একই গ্রামের মাসুদ রানার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে মোহিনী আক্তারকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। গত শনিবার বিকেলে বাড়ির পাশে খেলার সময় রাহিম ওই কিশোরীকে আবারও উত্ত্যক্ত করে। মোহিনী বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তার মাকে জানালে তিনি এর প্রতিবাদ করেন।

তখন রাহিমের পরিবারের সদস্যরা লাঠিসোটা নিয়ে মোহিনী ও তার মা মুক্তাবানুর ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে বখাটে রাহিম ওই কিশোরীকে লাঞ্ছিত ও বিবস্ত্র করে। সন্ধ্যায় মোহিনীর বাবা মাসুদ রানা বাড়িতে ফিরে এই ঘটনা জানতে পারেন। মেয়ের অপমানের কথা শুনে অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে মোহিনীর বাবা ও নানা লাঠি দিয়ে বখাটে রাহিম, তার বাবা মন্টু মিয়া, মা রুজিনা বেগম ও চাচা রবিউল ইসলামকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন।

লাঠির আঘাতে তাদের চারজনেরই মাথা ফেটে গুরুতর জখম হয়। পরে প্রতিবেশীরা আহতদের উদ্ধার করে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. আব্দুল্লাহ জানান, মারপিটের ঘটনায় ওই চারজনেরই মাথা কেটে গেছে। সেলাই ও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের জয়পুরহাট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কিশোরী মেয়ের ফুফু মুফতি বেগম বলেন, মেয়ের অপমানের কথা শুনে বাবা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের লাঠি দিয়ে মেরে আহত করেছে। তবে আইনের সহায়তা না নিয়ে নিজে মারপিট করাটা তার ভুল হয়েছে। তিনি আরও জানান, বখাটে রাহিম একজন মাদকাসক্ত এবং এ কারণে তার স্ত্রীও তাকে তালাক দিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নাজিমুল ইসলাম জানান, কিশোরীকে বিবস্ত্র করা ও মাকে মারপিটের কথা শুনে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এবং মেয়ে পক্ষকে আইনের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরে শোনেন মেয়ের বাবা বাড়িতে এসে ঘটনা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে চারজনের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন।

হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, এই ঘটনায় আহতদের পক্ষ থেকে চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি মাসুদ রানাকে রাতেই গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। কিশোরীকে উত্ত্যক্ত ও মারপিটের ঘটনাটি পুলিশ শুনেছে, তবে মেয়ে পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দিলে এই বিষয়েও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেএইচআর