ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের এক যুগ পূর্ণ হলো আজ। বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলায় ৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় হলেও এখনো গ্রেপ্তার হয়নি ১৬ দণ্ডিত আসামি।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২০ মে সকালে ফেনী শহরের মাস্টারপাড়ার নিজ বাসা থেকে ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতাল ঘুরে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদে যাচ্ছিলেন একরামুল হক একরাম।
তাকে বহনকারী গাড়িটি শহরের একাডেমি এলাকার বিলাসী সিনেমা হলের কাছে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা গাড়ির গতিরোধ করে। এ সময় একরামকে প্রকাশ্য দিবালোকে গাড়ির মধ্যে কুপিয়ে ও বুকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পরে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে তাকে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
এ ঘটনায় ওই দিন নিহতের বড় ভাই রেজাউল হক জসিম বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা করেন।
মামলায় ফুলগাজী উপজেলা বিএনপি নেতা ও উপজেলা নির্বাচনে একরামের প্রতিদ্বন্দ্বী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী মিনারকে আসামি করা হয়। মামলাটির তদন্ত শেষে ৫৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ। এর মধ্যে এক আসামি র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা যান।
২০১৮ সালের ১৩ মার্চ মামলার রায়ে ৩৯ জনকে ফাঁসির আদেশ দেন আদালত। রায়ে খালাস পান বিএনপির নেতা মাহতাব উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীসহ ১৬ জন।
স্থানীয় নির্বাচন থেকে আসামিদের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে একরামকে হত্যা করা হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণার ৮ বছর পার হয়ে গেলেও উচ্চ আদালতে শুরু হয়নি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিলের শুনানি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের মে মাসে উচ্চ আদালতের একটি বেঞ্চে একরাম হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি কার্যতালিকাভুক্ত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সরকার পতনের পর তা পিছিয়ে যায়।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ৩৯ জনের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, ফেনী পৌরসভার তৎকালীন কাউন্সিলর আবদুল্লাহ হিল মাহমুদসহ ২২ আসামি কারাগারে রয়েছেন। তারা সবাই খালাস চেয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। আর পলাতক রয়েছেন আরও ১৬ জন।
পলাতক আসামিরা হলেন- তৎকালীন ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন জিহাদ, আবিদুল ইসলাম, চৌধুরী মো. নাফিজ উদ্দিন, আরমান হোসেন, জাহেদুল হাসেম, জসিম উদ্দিন, এমরান হোসেন, রাহাত মো. এরফান, একরাম হোসেন ওরফে আকরাম, শফিকুর রহমান, কফিল উদ্দিন মাহমুদ, মোসলেম উদ্দিন, ইসমাইল হোসেন, মহিউদ্দিন আনিছ, মো. বাবলু ও টিটু। এর মধ্যে ৮ জন জামিনে কারাগার থেকে বের হয়ে পালিয়ে যান।
পলাতক আসামিদের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডে ‘প্রত্যক্ষভাবে জড়িত’ জাহিদ হোসেন জিহাদ ও আবিদুল ইসলাম আবিদ পালিয়ে দেশের বাইরে চলে যান। পলাতক ও কারাগারে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত সব আসামিই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী।
এ প্রসঙ্গে জানতে নিহতের স্ত্রী তাসমিন আক্তার এবং বড় ভাই মোজাম্মেল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের ব্যবহৃত নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
ফেনী আদালতের আইনজীবী শাহজাহান সাজু বলেন, এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ পৃথক দুটি আপিল করেছে। উচ্চ আদালতে মামলাটি বর্তমানে ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।
এ ব্যাপারে ফেনী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের মধ্যে সদর থানা এলাকার কয়েকজনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন