চলতি বোরো মৌসুমে মাগুরা সদর উপজেলায় সরকারিভাবে ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামী শনিবার থেকে। কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা দরে এবং মিলারদের কাছ থেকে প্রতি কেজি চাল ৪৯ টাকা দরে সংগ্রহ করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সরাসরি কৃষকের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পরিশোধের কারণে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং প্রকৃত কৃষক উপকৃত হবেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখার গত ২৭ এপ্রিলের এক স্মারকে জানানো হয়, চলতি বোরো সংগ্রহ মৌসুমে সারা দেশে ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিভাগ, জেলা ও উপজেলাভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রাও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা জেলায় সম্ভাব্য বোরো উৎপাদন ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৬৩ টন। এর মধ্যে শুধু মাগুরা সদর উপজেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮১১ টন। এ ছাড়া মোহাম্মদপুর উপজেলায় ৭৫৭ টন, শালিখায় ১ হাজার ৪১৫ টন এবং শ্রীপুর উপজেলায় ১৩৯ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইসরাত জাহান জানান, সরকার নির্ধারিত তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হবে। একজন নির্বাচিত কৃষক সর্বনিম্ন ১২০ কেজি থেকে সর্বোচ্চ ৩ টন পর্যন্ত ধান দিতে পারবেন। প্রতি কেজি ধানের মূল্য ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং কৃষকের নামীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো হবে। আগামী শনিবার থেকে মাগুরা সদরে ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু হলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে, মিলারদের কাছ থেকেও ইতোমধ্যে চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। সরকার নির্ধারিত ৪৯ টাকা কেজি দরে মাগুরা সদরের জন্য চাল সংগ্রহের বরাদ্দ রয়েছে ৩ হাজার ৭৫৮ টন। খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলায় মোট ৩৮টি নিবন্ধিত মিল রয়েছে। এর মধ্যে ২টি অটো রাইস মিল এবং ৩৬টি হাস্কিং মিল থেকে চাল সংগ্রহ করা হবে। সব সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে মাগুরা সদর এলএসডি (লোকাল সাপ্লাই ডিপো) গোডাউনের মাধ্যমে।
মাগুরা সদর এলএসডির ওসিএলএসডি মো. হাসানউজ্জামান বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ধান ও চালের মান যাচাই করে গ্রহণ করা হবে, যাতে সংরক্ষণে কোনো সমস্যা না হয়।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) সন্দীপ কুমার দাশ বলেন, মিলারদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ধান সংগ্রহ কার্যক্রম আগামী শনিবার থেকে শুরু হবে। কৃষকদের যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে কৃষকদের একটি অংশের দাবি, বাজারে ধানের দাম ওঠানামা করায় অনেক সময় সরকারি ক্রয়মূল্য আকর্ষণীয় থাকে না। আবার নিবন্ধন ও তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়াতেও অনেকে বাদ পড়েন। ফলে প্রকৃত ক্ষুদ্র কৃষক কতটা সুবিধা পাবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। খাদ্য বিভাগ অবশ্য বলছে, এবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল তালিকা, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ প্রদান এবং নির্ধারিত কৃষক নির্বাচন পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এতে অতীতের তুলনায় অনিয়ম অনেকাংশে কমবে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন