পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন মাদারীপুরের যুবক সুরুজ কাজী (২৫)। কিন্তু দালের মরণফাঁদে পড়ে সেই স্বপ্ন রূপ নিয়েছে বিষাদে। রাশিয়ায় গিয়ে প্রলোভনের মুখে যোগ দিতে হয়েছিল চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে। অবশেষে সেই যুদ্ধক্ষেত্রেই প্রাণ হারাতে হলো তাঁকে। সুরুজের মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া, পরিবারে চলছে বুকফাটা আর্তনাদ। একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা বাবা-মা এখন শুধু চান ছেলের লাশটি যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে সংসারের হাল ধরতে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন মাদারীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ খাগছড়া এলাকার শাহাবুদ্দিন কাজীর বড় ছেলে সুরুজ কাজী। রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তিনি এক বাংলাদেশি দালালের খপ্পরে পড়েন। চুক্তি অনুযায়ী বর্ডার পার করে ইউরোপের অন্য দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সুরুজকে কৌশলে রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যুক্ত করে দেয় ওই দালাল চক্র।
পরবর্তীতে তাঁকে পাঠানো হয় সম্মুখ সমরে। গত ১৮ মে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ চলাকালে ইউক্রেনীয় বাহিনীর এক হামলায় নিহত হন সুরুজ। গত বুধবার (২০ মে) বাংলাদেশ সময় রাত আনুমানিক ২টার দিকে রাশিয়ায় অবস্থানরত সুরুজের এক বাংলাদেশি সহযোদ্ধা মুঠোফোনে মৃত্যুর বিষয়টি তাঁর পরিবারকে নিশ্চিত করেন।
নিয়তির নির্মম পরিহাস, মাত্র তিন মাস আগেই জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে সুরুজের দুই বছর বয়সী একমাত্র শিশু পুত্র। সন্তানের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই এবার চিরতরে চলে গেলেন সুরুজ নিজে। বর্তমানে নিহত সুরুজের পরিবারে বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী, এক বোন ও ছোট দুটি ভাই রয়েছেন। একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে পুরো পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও দিশেহারা।
সুরুজের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। নিহতের সহপাঠী, স্বজন ও এলাকাবাসী এই অসচ্ছল পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন। একই সাথে নিহত সুরুজ কাজীর মরদেহটি যেন দ্রুত ও রাষ্ট্রীয় সহায়তায় বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন