পবিত্র ঈদুল আজহা নির্বিঘ্নে উদযাপন এবং কোরবানি-পরবর্তী দ্রুততম সময়ে বর্জ্য অপসারণ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নানামুখী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। এবার মহানগরীর প্রতিটি মুসলিম পরিবারকে বিনামূল্যে প্লাস্টিকমুক্ত পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পশুর চামড়া সংরক্ষণে বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানাকে ৬০ হাজার কেজি লবণ বিতরণ, যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তা এবং ঈদে ঘরমুখো ট্রেন যাত্রীদের বিনা খরচে মালামাল বহনে বিশেষ সেবা চালু করা হচ্ছে। রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনের এসব ব্যতিক্রমী ও জনবান্ধব উদ্যোগে খুশি নগরবাসী।
রাসিক সূত্রে জানা গেছে, এবারই প্রথমবারের মতো নগরীর ৮২ হাজার হোল্ডিংয়ের প্রতিটি মুসলিম পরিবারকে কোরবানির মাংস স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সংরক্ষণের জন্য ৩টি করে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গরু বা মহিষ কোরবানিদাতাদের জন্য বড় ২টি পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ১ কেজি ব্লিচিং পাউডার এবং ছাগল বা ভেড়া কোরবানিদাতাদের জন্য বড় ১টি পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ৫০০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার দেওয়া হচ্ছে। গত ২১ মে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রাসিক প্রশাসক।
এ ছাড়া ঈদে ঘরমুখো ট্রেন যাত্রীদের লাগেজ ও আসবাবপত্র বহনে সহায়তার জন্য রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিশেষ সেবা চালু থাকবে। সেখানে প্রতিদিন ৩টি শিফটে ২৪ ঘণ্টা রাসিকের ১২ জন করে মোট ৩৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত থাকবেন। অন্যদিকে, হযরত শাহ মখদুম রূপোশ (রহ.) কেন্দ্রীয় ঈদগাহসহ নগরীর ৬টি ঈদগাহে সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
দ্রুত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ওয়ার্ড সচিব ও সুপারভাইজারদের নিয়ে বিশেষ সমন্বয় সভা করেছেন রাসিক প্রশাসক। একই সঙ্গে সচেতনতা বাড়াতে বাড়ি বাড়ি লিফলেট পৌঁছানোর পাশাপাশি মসজিদের ইমামদের মাধ্যমেও প্রচার চালানো হচ্ছে।
রাসিকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নগরীর বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন বলেন, কোরবানির মাংস সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার বিতরণ খুবই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।
গৃহিণী শারমিন আক্তার ও রোকসানা বেগম জানান, পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারে মাংস সংরক্ষণ যেমন সহজ হবে, তেমনি ব্লিচিং পাউডার দুর্গন্ধ ও জীবাণু প্রতিরোধে দারুণ সহায়তা করবে। স্কুল শিক্ষক সোহেল রানা একে একটি দূরদর্শী ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে নাগরিক সেবা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রদান করেছেন। সেই লক্ষ্যেই আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। নগরবাসীকে যেসব ব্যাগ দেওয়া হচ্ছে তা সম্পূর্ণ প্লাস্টিকমুক্ত ও পচনশীল, যা কিছুদিনের মধ্যে মাটির সঙ্গে মিশে যাবে।
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী কোরবানি শুরুর ১২ ঘণ্টার মধ্যেই যেন সব বর্জ্য অপসারণ করা যায়, সেই অনুযায়ী সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আশা করি ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই আমরা বর্জ্যমুক্ত করতে সফল হব এবং ঈদের পরদিনই নগরবাসী একটি পরিচ্ছন্ন শহর উপহার পাবেন।” এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন