বরিশালে চামড়া বাজারে হতাশা, ন্যায্যমূল্য নিয়ে ক্ষোভ

আরিফ হোসেন, বরিশাল প্রকাশিত: মে ৩০, ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম
বরিশালে চামড়া বাজারে হতাশা, ন্যায্যমূল্য নিয়ে ক্ষোভ

কোরবানির ঈদ-পরবর্তী সময়ে পশুর চামড়া সংরক্ষণের লক্ষ্যে বরিশালে এখন চলছে লবণজাতকরণের ব্যস্ততা। তবে এই ব্যস্ততার আড়ালে স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম হতাশা, অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ।

সরকার নির্ধারিত মূল্য থাকলেও মাঠপর্যায়ে সেই দামে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা পশুর চামড়া বিক্রি করতে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বরিশালের সাধারণ মানুষ ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষও এ নিয়ে হতাশা জানিয়েছেন।

অনেকেই কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে ফেলে রেখে চলে গেছেন। মাদরাসা-সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী কোরবানির ঈদে আর চামড়া সংগ্রহ করবেন না তারা।

কোরবানির প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে নগরীর পোর্ট রোড এলাকায় ভ্যান, রিকশা ও অটোরিকশায় করে বিভিন্ন স্থান থেকে কাঁচা চামড়া নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। সেখানে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

একটি মাদরাসার শিক্ষক হেলাল বলেন, ‘আমাদের মাদরাসা থেকে এবার সিদ্ধান্ত ছিল চামড়া সংগ্রহ করা হবে না। তবুও বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে আমরা সংগ্রহ করেছি। এখন বিপদে পড়েছি। গরুর চামড়া ৪০০ টাকা করে বলছে ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরাও অসহায়। তারা ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে টাকা পাচ্ছে না। অনেকেই লোকসানের ভয়ে চামড়া কিনতে চাইছে না। বাজার পরিস্থিতি খুব খারাপ।’

পোর্ট রোড এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নাসির বলেন, ‘গত বছরের মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ টাকা আমরা পেয়েছি। এ কারণে ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। সাতটি চামড়া এলে একটি রাখছি, বাকিগুলো ফেরত দিচ্ছি। গরুর চামড়া ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় কিনছি। ছাগলের চামড়ার কোনো দাম নেই। ট্যানারি মালিকদের কাছে টাকা না পেয়ে অনেকে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন।’

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেট ভাঙা, বকেয়া টাকা আদায় এবং সরকারি নজরদারি জোরদার করা না গেলে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় এই চামড়া শিল্প বরিশাল অঞ্চল থেকে অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

তবে এ বছর বরিশাল নগরীর দুটি আড়তে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে।

এএন