ইসলামী ব্যাংক ঘিরে মাগুরায় নতুন বিতর্ক

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা প্রকাশিত: জুন ২, ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
ইসলামী ব্যাংক ঘিরে মাগুরায় নতুন বিতর্ক

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ঋণ বিতরণ, অর্থপাচার এবং সাম্প্রতিক চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই মাগুরায় প্রতিবাদী মানববন্ধন করেছে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম। মানববন্ধন থেকে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং বিতর্কিত নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে মাগুরা শহরের ইসলামী ব্যাংক শাখার সামনে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মাগুরা জেলা শাখার সেক্রেটারি সাঈদ আহমেদ। মানববন্ধনে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন গ্রাহক ও সাধারণ জনতা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাহবুবুর রহমান, মাগুরা পৌর জামায়াতের আমির আশরাফুল আলম, জামায়াত নেতা মাসুদ আলম, গ্রাহক ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল আলম এবং মহিলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সময়ে ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়া হয়েছে, যার একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ ইসলামী ধারার ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে চলছে এবং এর ফলে সাধারণ আমানতকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এস আলমের সময়কালে সংঘটিত অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তাঁরা এস আলমকে দ্রুত গ্রেফতার করে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে সম্প্রতি খুরশিদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করা হয়। বক্তাদের ভাষ্য, এই নিয়োগ ব্যাংকের স্বার্থ ও গ্রাহকদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তাই দ্রুত ওই নিয়োগ বাতিল করতে হবে।

মানববন্ধনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং বিতর্কিত নিয়োগ বাতিলের দাবিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তাঁরা সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও অর্থপাচারের অভিযোগগুলো গভীরভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানান। মানববন্ধন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাগুরা সদর থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কর্মসূচি শেষ হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে ঋণ কেলেঙ্কারি ও অর্থপাচারের অভিযোগ ইতোমধ্যে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আর্থিক খাতের সুশাসন ও জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হলে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। মাগুরার এই মানববন্ধন মূলত সেই জাতীয় বিতর্কেরই স্থানীয় প্রতিফলন, যেখানে ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

জেএইচআর