ভূঞাপুর-গোপালপুরে দুই গ্রামের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, ১৪৪ ধারা জারি

মামুন সরকার, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
ভূঞাপুর-গোপালপুরে দুই গ্রামের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, ১৪৪ ধারা জারি

টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ৬টা থেকে গোপালপুর উপজেলার গোলপেচা এবং ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা এলাকায় এ আদেশ কার্যকর করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত ২২ এপ্রিল একটি দোকানে বাকি টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষ হয়। সেই ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। এরপর দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা গ্রামের কালাম তালুকদার (৬৫) নিহত হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত ১০ থেকে ১১টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, গরু–বাছুর, ধানসহ গৃহস্থালি সামগ্রীও লুট করা হয়েছে।

অন্যদিকে রাতে গোপালপুরের নলিন বাজারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কয়েকটি দোকানে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে মালামাল লুট করা হয়েছে, এতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামছুল আলম বলেন, আগের সংঘর্ষের প্রতিশোধ হিসেবে কয়েকশ মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়, এতে নারী ও শিশুসহ অনেকে আহত হন। আহতদের মধ্যে যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর হোসেনের অবস্থা গুরুতর।

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান জানান, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

ভূঞাপুর থানার ওসি মো. সাব্বির রহমান বলেন, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এম জি